শিক্ষক নিয়োগে স্পোর্টস 'কোটা'কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত অন্ধ্রপ্রদেশ। Mega DSC-2025-এর স্পোর্টস কোটা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবিতে পথে নামে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)। সোমবার বিজয়ওয়াড়ায় Sports Authority of Andhra Pradesh (SAAP)-এর দফতরের সামনে বিক্ষোভকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। YSRCP-এর অভিযোগ, স্পোর্টস কোটায় এমন কয়েকজন প্রার্থী শিক্ষক পদে সুযোগ পেয়েছেন, যাঁদের ক্রীড়া শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে প্রকৃত খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি বিরোধী দলের। এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হন YSRCP নেতারা। বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন দলের Youth Empowerment Convener এবং প্রাক্তন APPSC বোর্ড সদস্য সালাম বাবুও।

আরও পড়ুন: প্রশ্নের মুখে নামী মাল্টিপ্লেক্সে নারী নিরাপত্তা: কটূক্তির প্রতিবাদে দম্পতিকে মারধর! ধৃত ৬

পুলিশের তরফে আগে থেকেই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিনায়ক বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েছিল প্রশাসন। তা সত্ত্বেও SAAP দফতরের কাছে জমায়েত করেন YSRCP কর্মী-সমর্থকেরা। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনায় কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্পোর্টস কোটায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা। তাঁরা নিজেদের নিয়োগের পক্ষে সওয়াল করে ভুয়ো সার্টিফিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাতাহাতির অভিযোগও সামনে আসে। ঘটনায় এক শিক্ষকের মাথায় আঘাত লাগে বলে দাবি। তবে YSRCP-এর অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে শাসকদল TDP। স্পোর্টস মন্ত্রী মন্দিপল্লি রামপ্রসাদ রেড্ডি এবং TDP বিধায়ক এলুরি সম্বশিব রাওয়ের অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মীরাই অশান্তি তৈরি করেছেন এবং শিক্ষকদের উপর হামলার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের আরও দাবি, বাইরে থেকে কিছু লোক এবং দাগি অপরাধীদের ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: শানটিংয়ের সময় বালুরঘাটে লাইনচ্যুত ফরাক্কা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন

প্রসঙ্গত,এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে Mega DSC-2025-এর স্পোর্টস কোটা নিয়োগ। SAAP-এর ১ মে ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেধাবী ক্রীড়াবিদদের জন্য ৩ শতাংশ অনুভূমিক সংরক্ষণের আওতায় ৪২১টি শিক্ষক পদে আবেদন চাওয়া হয়েছিল। এই কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে মোট ৩৭২ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ ঘিরে অবশ্য প্রার্থীদের নথিপত্র খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। সরকারের বক্তব্য, প্রতিটি প্রার্থীর যোগ্যতা এবং ক্রীড়া শংসাপত্র আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কারও শংসাপত্র জাল প্রমাণিত হলে বা নির্ধারিত যোগ্যতার নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এখন মূল নজর সরকারি নথি যাচাই এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে। স্পোর্টস কোটায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা যেমন নিজেদের যোগ্যতার পক্ষে সওয়াল করছেন, তেমনই বিরোধীরা গোটা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।