শপিং মলের ঝাঁ-চকচকে পরিবেশ, নামী মাল্টিপ্লেক্স (Multiplex), অথচ সিনেমা দেখতে ঢুকেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই! হলের ভিতরে এক মহিলা ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ উঠল একদল যুবকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হতে হল অভিযোগকারী দম্পতিকেই। প্রশ্ন উঠছে, দর্শকদের নিরাপত্তায় মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? মহিলাদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর আচরণ চললেও কেন তা দ্রুত আটকানো গেল না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

অভিযোগ, কসবার (Kasba) ওই মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা চলাকালীন ৬ যুবক এক মহিলা এবং তাঁর মহিলা বন্ধুদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য করতে থাকে। প্রতিবাদ করতেই নাকি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। অভিযোগকারিণী এবং তাঁর স্বামীর সঙ্গে অভব্য আচরণের পাশাপাশি তাঁদের মারধরও করা হয়। 

ঘটনার পর খবর যায় কসবা থানায় (Kasba Police Station)। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সেখানেও অভিযুক্তদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পরে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মহিলাদের উদ্দেশ্যে অশালীন আচরণ, শ্লীলতাহানি, মারধর ও হুমকির অভিযোগ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। আজ ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে। 

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে পারে। অভিযুক্তেরা হলেন আনন্দ কুমার, সুরেশ কুমার, অরবিন্দ কুমার, সৃজন দরবার, মনোজ রায় এবং অরিন্দম ঘোষ। পুলিশ সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সৃজন নামে ওই অভিযুক্ত নিজেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) পড়ুয়া বলে দাবি করেন। এমনকি, সে হুমকিও দেয় যে তাঁকে গ্রেফতার করলে পরিণতি খারাপ হবে। মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রগুলির নজরদারি ব্যবস্থা কি শুধুই ঘটনার পরে সক্রিয় হবে, নাকি ঘটনার আগেই এমন পরিস্থিতি রোখার ব্যবস্থা থাকা উচিত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।