দাম্পত্য কলহের জেরেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। স্ত্রীকে খুন করে দেহ মাটিতে পুঁতে দিলেন স্বামী। এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল বেঙ্গালুরু (Bengaluru)। স্থানীয় সূত্রে খবর, জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ চলছিল একটি ফাঁকা জমিতে। আচমকাই কোনও একটি জিনিসে হোঁচট খান এক সাফাইকর্মী। কীসে পা আটকাল, তা দেখতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে তাঁর। মাটির নীচ থেকে বেরিয়ে রয়েছে মানুষের একটি হাত! সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন তিনি। সেই হাত দেখেই শুরু হয় তদন্ত। শেষ পর্যন্ত ওই সাফাইকর্মীর হোঁচটেই বেঙ্গালুরুতে এক মহিলাকে খুনের রহস্যের কিনারা করল পুলিশ।
আরও পড়ুন: অসতর্ক হলেই চরম বিপদ! বাঘ-সিংহের ডেরায় সুরক্ষিত থাকার ‘সুপার গাইড’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেঙ্গালুরুর পুলিশ (Bengaluru Police)। মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় মহিলার দেহ (Women Body Found)। তবে তত দিনে দেহে পচন ধরে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, দেহের কিছু অংশ কুকুরে ছিঁড়ে খেয়েছিল বলেও পুলিশের অনুমান। ফলে দেহ দেখে মৃতার পরিচয় জানা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবে তাঁর পরনের পোশাক দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়, মৃতা এক মহিলা। এরপর শুরু হয় পরিচয় জানার চেষ্টা। আশপাশের থানাগুলিতে কোনও মহিলার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সেখান থেকেও প্রথমে কোনও সূত্র মেলেনি। তদন্তে অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে মৃতার পরনের পোশাক। পোশাকে থাকা একটি ট্যাগ দেখে নির্দিষ্ট একটি দোকানের সন্ধান পায় পুলিশ।
সেই দোকানে যোগাযোগ করতেই তদন্তকারীদের সামনে আসে মৃতার পরিচয়। পুলিশ জানতে পারে, ওই মহিলাই সেখানে কাজ করতেন। তাঁর নাম অনসূয়া বেহরা, বয়স ২৮ বছর। তাঁর স্বামী সাগর চন্দ্র রাওয়াত। তিনি বিহারের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। একটি হোটেলে কাজ করতেন সাগর, আর অনসূয়া কাজ করতেন পোশাকের দোকানে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অনসূয়া ও সাগরের প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তাঁরা বেঙ্গালুরুতে চলে আসেন। তবে দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। মূলত টাকাপয়সা নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলে পড়শিদের বক্তব্য।
আরও পড়ুন: ব্যান বিতর্ক অতীত! দেবের ডিরেকশনে কাজ করাটাই চ্যালেঞ্জিং, অকপট অনির্বাণ
পুলিশের দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান অনসূয়া। সেই সময় তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কোনও অভিযোগ থানায় দায়ের হয়নি। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই দিনই অনসূয়াকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর তাঁর দেহ তিন দিন বাড়িতেই রাখা হয়েছিল। এরপর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি ফাঁকা জমিতে নিয়ে গিয়ে দেহটি মাটির নীচে পুঁতে দেওয়া হয়। দেহ পুঁতে দেওয়ার পরেও সাগর নিয়মিত ওই জমির আশপাশে যেতেন। স্ত্রীকে কেউ দেখতে পেয়েছেন কি না, তা বোঝার জন্য প্রতিদিন এক বার করে সেখানে যেতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এরই মধ্যে বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রবল বৃষ্টি ও জল জমার কারণে জমির মাটি ধুয়ে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে মাটির নীচে থাকা দেহের অংশ বেরিয়ে আসে। জঙ্গল ঘেরা ওই জায়গায় সাধারণত মানুষের যাতায়াত কম থাকায় বিষয়টি কারও নজরে পড়েনি। স্থানীয় কয়েক জন অবশ্য বেশ কিছু দিন ধরে ওই এলাকা থেকে পচা গন্ধ পাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা সেটিকে কোনও মৃত পশুর গন্ধ বলে মনে করেছিলেন। শুক্রবার জমির মালিক জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ শুরু করান। সেই সময়েই এক সাফাইকর্মীর পায়ে কিছু একটা আটকে যায়। নীচে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে রয়েছে মানুষের হাত। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। পোশাকের ট্যাগ থেকে মৃতার পরিচয়, সেখান থেকে তাঁর কর্মস্থল এবং শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে পৌঁছয় তদন্ত। পুলিশ সাগরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তবে কথার মধ্যে অসঙ্গতির জেরে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড তা স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
















