কলকাতা লিগের নির্ণায়ক ডার্বিতে ১০ জনের মোহনবাগানের কাছে হারের ধাক্কা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না মহামেডান স্পোর্টিং। রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এ বার ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড বয়কটের পথেই হাঁটল সাদা-কালো ব্রিগেড। আগামিকাল, মঙ্গলবার থেকে ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মাঠে নামছে না তারা। একেবারে শেষ মুহূর্তে মহামেডান নাম প্রত্যাহার করায় তীব্র সংকটে পড়েছে আইএনএ। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ইউনাইটেড স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন রাজ্য ফুটবল সংস্থার কর্তারা।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শনিবারের কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের মেগা ম্যাচকে কেন্দ্র করে। সমীকরণ ছিল স্পষ্ট—যেই জিতবে, তারই ঘরে উঠবে ট্রফি। টানটান উত্তেজনার সেই ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। বিরতির আগেই সমতা ফেরায় মহামেডান। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সবুজ-মেরুনের এক ফুটবলার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে মহামেডানের সামনে জয়ের রাস্তা কার্যত উন্মুক্ত হয়ে যায়। অথচ সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানো তো দূরস্ত, সংখ্যায় কম থাকা মোহনবাগানের বিরুদ্ধেই জোড়া গোল হজম করে বসে সাদা-কালো রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে দীর্ঘ আট বছর পর ঘরোয়া লিগ ঘরে তোলে বাগান ব্রিগেড।
ম্যাচ শেষ হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহামেডান কর্তারা। বিশেষ করে ম্যাচের ৭৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া গোলটি অফসাইড ছিল দাবি করে তাঁরা ম্যাচ পুনরায় করানোর দাবি তোলেন। মহামেডান সচিব ওয়াসিম আক্রম প্রকাশ্যেই বলেন, "রেফারিংয়ের মান অত্যন্ত জঘন্য ছিল। আমরা কিছুতেই শিল্ড খেলব না।" ক্লাবের সভাপতি গজল উজ জাফরও সুর চড়িয়ে জানান, বারবার এমন অবিচার মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
সোমবার এই বিষয়গুলি নিয়ে আইএফএ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মহামেডান প্রতিনিধিরা। কিন্তু বরফ গলেনি। বৈঠকের পরেও নিজেদের বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে ক্লাব নেতৃত্ব। সূচি অনুযায়ী, আগামিকাল অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল মহামেডানের। ২৩ সেপ্টেম্বর শ্রীনিধি ডেকানের বিরুদ্ধে নামছে মোহনবাগান।
অন্য দিকে, ব্রাজিল ম্যাচের কারণে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এই মুহূর্তে ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল মাঠ ছাড়াও বারাসত এবং কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি আয়োজনের প্রস্তুতি সেরেছিল আইএফএ। কিন্তু বল গড়ানোর ঠিক আগের মুহূর্তে মহামেডানের এমন অনমনীয় পদক্ষেপে ময়দানি টুর্নামেন্টের রং যে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
















