মাত্র ২ মাসেই বিজেপির শাসনে লাগাতার ধর্ষণ-খুন, আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে তৃণমূলের ছাত্র-যুবদের মিছিলে বিজেপির ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনীর নির্মম হামলা। বালিগঞ্জ থেকে হাজরা মোড়ের পথে, জায়গায় জায়গায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর অকথ্য অত্যাচার, মারধর। নির্বাক দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনীর সামনেই তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের উপর এলোপাথাড়ি মারধর বিজেপির গেরুয়া পতাকাধারী লুম্পেন বাহিনীর। আক্রান্ত ২৫-৩০ জন তৃণমূল কর্মী। অনেকের মাথায় রক্তের স্রোত। অনেকে অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়েছেন রাস্তায়। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশকে ঢাল করে বিজেপির এই বেলাগাম গুন্ডামিতে জখম তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। 

এদিন বিকেলে ফেসবুকে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও জনসাধারণের উদ্দেশে বার্তায় বিজেপির এই গুন্ডামির তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, সারা রাস্তা জুড়ে মেয়েদের সারা শরীরে মেরেছে, লাঠি দিয়ে, রড দিয়ে। আমি ৪১ জনকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম। তাও পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড করে রেখেছে, যাতে গাড়িগুলো যেতে না পারে! হাসপাতালে তাঁরা গিয়েছে, কিন্তু আমি জানি না আদৌও সঠিক চিকিৎসা পাবে কি না! হয়তো একটু লিউকোপ্লাস্ট বেঁধে দিয়ে, পুলিশের কথায় যোগ্য ট্রিটমেন্ট না করে হাসপাতাল তাঁদের ফিরিয়ে দেবে। তা সত্ত্বেও সৌগত রায়, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল এসএসকেএম গিয়েছে তাঁদের সঠিক চিকিৎসার জন্য। মারের চোটে অনেকের দম বন্ধ হয়ে আসছে, নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না মেয়েরা। কমপক্ষে ২০-২৫ জনের মাথায় রক্ত ঝরতে দেখেছি। আমাদের কর্মীরাই আহতদের উদ্ধার করেছে। আর পুলিশ শুধু নির্লিপ্তভাবে দেখেছে।

আহত ৪১ জনের তালিকা-

১. মহম্মদ আসিফ হোসেন, ২. রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়, ৩. মধুমিতা মিস্ত্রি, ৪. প্রিয়াঙ্কা অধিকারী, ৫. তিয়াসা রায়, ৬. দেবারতি সরকার, ৭. বৈশালী দত্তগুপ্ত, ৮. প্রিয়জিৎ মণ্ডল, ৯. অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়, ১০. নয়নিকা রায়, ১১. রাখাল চক্রবর্তী, ১২. শিবলীন ঘােষ, ১৩. মহম্মদ আজহারউদ্দিন, ১৪. মহােতা মালাকার দাস, ১৫. অনুর দাস, ১৬. মৌমিতা কুল, ১৭. রাজা মিত্র, ১৮. এমিলি ঘোষ, ১৯. পলি রায়, ২০. উপাসনা চৌধুরি, ২১. সমরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ২২. শতদীপ সিনহা রায়, ২৩. কৌশিক বোস, ২৪. বিশ্বজিৎ রায়, ২৫. অরিন্দম কাঞ্জিলাল, ২৬. সুমিত গুপ্ত, ২৭. মুনমুন জমাদার, ২৮. হিমাদ্রি বটব্যাল, ২৯. উদ্দীক খাতুন, ৩০. সুমিত দে, ৩১. সুলেখা দে, ৩২. প্রথীব বন্দ্যোপাধ্যায়, ৩৩. দীপ চৌধুরি, ৩৪. প্রতাপ ঘোষ, ৩৫. কমককান্তি ঘোষ, ৩৬. মমতা মালাকার দাস, ৩৭. সায়ত চট্টোপাধ্যায়, ৩৮. মহম্মদ আজহারউদ্দিন, ৩৯. আশিস শীল, ৪০. হিমাদ্রি বটব্যাল, ৪১. প্রতীক ধর।

তৃণমূলের ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপির হাতে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের খোঁজ নিতে এদিন এসএসকেএমে যান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সহ তৃণমূল নেতৃত্ব।