রাজ্য বার কাউন্সিল নির্বাচনে বিপুল সাফল্য পেল তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত আইনজীবীরা। নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই দেখা গেল, বিরোধী দলগুলির প্রার্থীদের কার্যত কোণঠাসা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিনিয়ে নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই ফলাফলে স্বাভাবিকভাবেই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস। আইনজীবীদের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিরোধীরা সেভাবে নিজেদের উপস্থিতির ছাপ ফেলতেই ব্যর্থ হয়েছে।

রাজ্য বার কাউন্সিলের মোট ২৩টি আসনের মধ্যে ১৫টি আসনেই জয়লাভ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা। জয়ী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন চারজন মহিলা এবং ১১ জন পুরুষ প্রতিনিধি। তৃণমূল আইনজীবী সেলের প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তী সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জয়ী হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব, আনসার মণ্ডল, ইন্দ্রনীল বসু, সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়, প্রসূনকান্তি দাস, অরুণকুমার সরকার, অনিন্দ্যকিশোর রাউত, সোনাল সিনহা, শ্যামল ঘটক, গৌতম দাস, সোমা ধর, সুলতা সরকার এবং মল্লিকা চট্টোপাধ্যায়। 

ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস আইনজীবী সেলের সদস্য সঞ্জয় বর্ধন জানান, এই জয় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে রাজ্যের আইনজীবী মহল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও নেতৃত্বের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছে। খুব শীঘ্রই তৃণমূলের পরিচালনায় নতুন বোর্ড গঠিত হবে। তাঁর দাবি, এই ফল আগামী দিনে রাজ্যের বিচারব্যবস্থা ও আদালত চত্বরের সামগ্রিক উন্নতিতে বাড়তি উদ্যম জোগাবে। পাশাপাশি বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অপপ্রচার চালিয়েও আইনজীবীদের মন পাওয়া সম্ভব হয়নি বিজেপির। 

আইনজীবী মহলের মতে, তৃণমূল সরকারের নেওয়া বিভিন্ন আইনি নীতি, জুনিয়র আইনজীবীদের জন্য স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা, প্রবীণ আইনজীবীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আদালতগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজই এই ফলাফলে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।