“কণ্ঠস্বরের কী প্রয়োজনীয়তা?“ ফের প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। উস্কানিমূলক মামলায় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা যে  তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চেয়েছে, সেই মামলাতেই মঙ্গলবার দ্রুত শুনানি চান অভিষেক। এদিক তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তেও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে সিআইডি। 

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের এক প্রচারসভায় বিরোধীদের নিশানা করে অভিষেক বলেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাঁদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব।” এই মন্তব্য উস্কানিমূলক বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বাগুইআটির এক বাসিন্দা বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিষেকের ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। বিষয়টির তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডি-(CID)  কে। তদন্তে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চান সিআইডি-র আধিকারিকেরা। বিধাননগর আদালত সম্মতি দেয়। কিন্তু তার বিরোধিতা করে হাই কোর্টে যান অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ওই কণ্ঠস্বর তাঁরই। এ বিষয়টি তিনি অস্বীকারও করেননি। তার পরেও কেন কণ্ঠস্বরের নমুনার প্রয়োজন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্টে মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ রয়েছে অভিষেকের।

এই মামলায় দ্রুত শুনানি চেয়ে আবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেকের আইনজীবীরা। এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা উঠলে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ ছিল তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু কণ্ঠস্বর পরীক্ষার নির্দেশ থাকলেও অভিষেক আসছেন না। 

বিচারপতি অভিষেকের আইজীবীকে প্রশ্ন করেন, তাঁর মক্কেলের যখন রক্ষাকবচ রয়েছে, তখন কেন তদন্তে সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তদন্তকারীদের কণ্ঠস্বর নমুনা দিন। পাল্টা অভিষেকের আইনজীবী আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় ও অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, “কণ্ঠস্বরের কী প্রয়োজনীয়তা? আমরা ওই নিম্ন আদালতের নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করছি। এটা তাঁর কণ্ঠস্বর আমার মক্কেল স্বীকার করছেন। তার পরেও কেন ওই নির্দেশ?”

পাল্টা রাজ্যের বক্তব্য, অভিষেকের কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই জন্যই নমুনা চায় পুলিশ। আদালত তদন্তে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিলেও তা করা হচ্ছে না। এর পরই বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, আগামী শুক্রবার ওই মামলার শুনানি। ওই দিন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে শুনানি হবে।