রানা রউফের (Rana Rauf) গ্রেফতারির পর তদন্তে একের পর এক নতুন যোগসূত্র সামনে আসছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই রিষড়া (Rishra) থেকে জাফর শাম (Zafar Sham) ওরফে সানিকে গ্রেফতার করল এসটিএফ (STF)। বুধবার গভীর রাতে সন্ধ্যাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে ধরা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতার তপসিয়ার বাসিন্দা সানি জাল নথি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্য একটি ফরেনার মামলায় অভিযুক্তদের জন্য ভুয়ো কাগজপত্র তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রানা রউফ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের খোঁজে তদন্ত শুরু করে এসটিএফ। সেই সূত্রেই সানির নাম সামনে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশি তৎপরতা বাড়তেই তিনি তপসিয়া ছেড়ে রিষড়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। গোপন সূত্রে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রানার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কত দিনের এবং জাল নথি তৈরির কাজের বাইরে তাঁর কথিত নেটওয়ার্কে কোনও ভূমিকা ছিল কি না, জিজ্ঞাসাবাদে তা জানার চেষ্টা চলছে।

এর আগে রানার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তপসিয়ার ইমরান ও ইজাজ আলিকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক রানা কাঠমান্ডু হয়ে ভারতে এসে কলকাতায় ভুয়ো পরিচয়ে থাকছিলেন। সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের। সেই তদন্তেই ফোর্ট উইলিয়াম-সহ (Fort William) নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। সানিকে গ্রেফতারের পর এই মামলায় ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল চার।

এখন তদন্তকারীদের নজর সানির মাধ্যমে রানার কথিত নেটওয়ার্কের আরও কোনও সদস্যের সন্ধান মেলে কি না, সেদিকে। জাল নথি তৈরির চক্রের সঙ্গে রানার যোগাযোগের কোনও যোগসূত্র ছিল কি না, থাকলে সেই কাজে সানির নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল এই দুই প্রশ্নের উত্তরই আপাতত খুঁজছেন তদন্তকারীরা।