পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী কার্যকলাপের পুনরুত্থান ঠেকাতে কড়া অবস্থানের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সিপিআই (মাওবাদী)-এর শীর্ষ নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের (Top Maoist leader Asim Mondal, alias Akash) গ্রেফতারির পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, রাজ্যে ‘লাল সন্ত্রাস’ বা উগ্র বামপন্থী হিংসাকে ফের জায়গা দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেতাকে গ্রেফতার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় সাফল্য।

পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে (Patashpur in East Medinipur) শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৬৪ বছরের আকাশ। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (Special Task Force) সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে থাকা এই নেতা সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। এখন তাঁর কাছ থেকে মাওবাদীদের বর্তমান নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আকাশকে ঘিরে একাধিক রাজ্যের পুলিশের নজর ছিল বলেও জানা গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা এবং ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি-I-এর সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সংগঠন পরিচালনার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ফুলচক গ্রামের (Phulchak village in Chandrakona, West Medinipur) বাসিন্দা অসীম মণ্ডল আশির দশক থেকেই অতিবাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে পিপলস ওয়ার গ্রুপে যোগ দেন। ২০০৪ সালে সিপিআই (মাওবাদী) গঠনের পর সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সক্রিয়তা আরও বাড়ে। জঙ্গলমহলে মাওবাদী আন্দোলনের সময়ও তাঁর নাম সামনে এসেছিল। লালগড় পর্বেও তাঁর ভূমিকার কথা পুলিশ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আকাশের গ্রেফতারির পর এখন তদন্তকারীদের নজর তাঁর যোগাযোগের পরিধির দিকে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তিনি কীভাবে সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন, কারা তাঁকে আশ্রয় ও সহযোগিতা করেছিল এবং বর্তমানে মাওবাদীদের কোনও সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার আবহে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।