বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষের রেশ পৌঁছাল থানা চত্বরে। অভিযোগ জানাতে গিয়ে খোদ রায়গঞ্জ থানার ভেতরেই আক্রান্ত হলেন বামপন্থী আইনজীবী তথা নেতা সাগ্নিক চক্রবর্তী। আক্রান্ত হয়েছেন প্রবীণ বাম নেতা উত্তম পালও। থানার মতো সংরক্ষিত এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবাদে বুধবার রায়গঞ্জ শহরজুড়ে তৈরি হয় ব্যাপক উত্তেজনা, দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে আদালত বয়কট ও বিক্ষোভের ডাক দেন স্থানীয় আইনজীবীরা।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি এবং এসএফআই-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে কেন্দ্র করে। ওই সংঘর্ষে এসএফআই-এর বেশ কয়েক জন কর্মী আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ও মহকুমা হাসপাতালের উত্তেজনার পর ঘটনার অভিযোগ দায়ের করতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে রায়গঞ্জ থানায় যান বামপন্থী আইনজীবী সাগ্নিক চক্রবর্তী। অভিযোগ, থানা চত্বরে প্রবেশ করা মাত্রই একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয়। বাঁশ ও লাঠি নিয়ে চালানো হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান সাগ্নিক চক্রবর্তী। বাধা দিতে গেলে প্রবীণ নেতা উত্তম পালকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
আক্রান্ত বাম নেতৃত্বের দাবি, হামলাকারীরা সকলেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী এবং গোটা ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। একই সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, থানার ভেতরে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের চোখের সামনে এই তাণ্ডব চললেও পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে।
থানা চত্বরে একজন আইনজীবীর উপর এমন হামলার প্রতিবাদে বুধবার কর্মবিরতির ডাক দিয়ে রাস্তায় নামেন উত্তর দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সায়ন চৌধুরী পুলিশ প্রশাসনের চূড়ান্ত নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে, অবিলম্বে এই হামলায় জড়িত সমস্ত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে এবং কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ না করলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আইনজীবীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু হয়ে থানা চত্বরে আইনজীবীর রক্ত ঝরার এই ঘটনায় উত্তর দিনাজপুর জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে। খোদ থানার নিরাপত্তাহীনতা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।















