টানা বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার আরামবাগ (Arambagh) ও সবংয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। দুই এলাকায় প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরেজমিনে ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। কোথায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, জলস্তর পরিস্থিতি কী এবং দুর্গতদের কাছে ত্রাণ ও অন্যান্য পরিষেবা ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, সফরে সেই সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।
আরামবাগ মহকুমার একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টির জেরে নদীগুলির জলস্তরও বেড়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল আরামবাগে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির সামগ্রিক পর্যালোচনা করবেন।
বন্যা পরিস্থিতি সামলাতে বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকেই মন্ত্রী ও বিধায়কদের জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের রাত থেকেই পৌঁছে গিয়ে সেখানেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ সরাসরি নজরদারি করার পাশাপাশি বিপন্ন মানুষের পাশে থেকে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু বৈঠক বা নির্দেশ নয়, মাঠে নেমে পরিস্থিতি মোকাবিলাতেই জোর দিচ্ছে সরকার।
এর পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের নিয়ে এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা কী ভাবে উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছচ্ছে, তা মানুষের সামনে তুলে ধরার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিধায়কদের সক্রিয় ভাবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তও চলছে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
















