গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-তে দুর্নীতি নিয়ে ফের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল, GTA-র অধীন ১১টি বোর্ডে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ কোনও ক্ষেত্রেই কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। সেইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠন করা হবে। প্রয়োজনে FIR করা হবে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে এবং লুঠের টাকা উদ্ধার করা হবে বলেও আশ্বস্ত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister)।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে কালিম্পং-এ যেতে না পেরে, মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কালিম্পঙের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী (West Bengal Chief Minister)। সেখান থেকেই জিটিএ প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “GTA-তে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেটাও আমি ছাড়ব না।” ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে গঠিত কমিশন পাহাড় পরিদর্শন করেছে বলেও জানান তিনি। GTA-র পানীয় জল প্রকল্প থেকে শিক্ষক নিয়োগ এবং ১১টি বোর্ডে বরাদ্দ অর্থের ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সবকিছুর তদন্ত হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister)। GTA-র চেয়ারম্যান-সহ একাধিক পদাধিকারীর পদত্যাগের প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, GTA-তে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়েছে এবং GTA-র বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাহাড়ের উন্নয়ন থেমে থাকবে না। উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

পাহাড়ের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলাতেও প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খারাপ আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রশাসনকে সবসময় প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন তিনি।

এদিন কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister)। পাশাপাশি পাহাড়বাসীদের স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে পুজোর মুখে চা শ্রমিকদের জন্যও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পুজোতে চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়া হবে। বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি (Tea Garden) ফের খোলা হবে। চা বাগান সংক্রান্ত সমস্যাগুলিও দ্রুত মেটানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister)। পাহাড়ের মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু জানান,ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় কালিম্পংয়ে নতুন করে ৮,৩২৫ জন সুবিধা পেতে চলেছেন।যাদের জমি রয়েছে কিন্তু বাড়ি নেই, তাদের বাড়ি তৈরির জন্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২০২৫ সালের ধসে ক্ষতিগ্রস্তদেরও সাহায্য করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি তৈরির জন্য ৭৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে এদিন কালিম্পঙে পৌঁছতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী।কুয়াশার কারণে তাঁর কপ্টার অবতরণ করতে পারেনি। প্রায় ১০ মিনিট অবতরণের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় পাইলট অবতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেন।এরপর উত্তরকন্যায় ফিরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি কালিম্পঙের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি।