সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি (BJP)। সেই সন্দেশখালিতেই এ বার বিজেপির বিধায়ক রেখা পাত্রকে (BJP MLA Rekha Patra) ঘিরে হাতাহাতির অভিযোগ সামনে আসায় পাল্টা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জমি-বিবাদকে কেন্দ্র করে পুলিশের সামনেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ। আর সেই ঘটনার একটি ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ব বাংলা সংবাদ) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অস্বস্তি বেড়েছে গেরুয়া শিবিরে।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে সন্দেশখালি-২ ব্লকের বউঠাকুরন গ্রামের প্রায় ৯ বিঘা জমি। জমির রেকর্ড ও মালিকানা নিয়ে রেখা পাত্রের পরিবারের শরিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া থেকে শুরু করে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর জমিতে চাষকে কেন্দ্র করেই ফের দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়।
অভিযোগ, জমিতে চাষ করতে গেলে সুভাষ নস্করের সঙ্গে রেখা পাত্র ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের বচসা বাধে। কথা কাটাকাটি ক্রমে উত্তেজনায় পৌঁছায় এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় । ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি কেন, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে। এমনকি সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিধায়কের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। কারণ, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে সরব থাকা বিজেপিরই এক বিধায়কের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে হাতাহাতির অভিযোগ। ফলে রাজনৈতিক মঞ্চে আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন তোলা আর বাস্তবে দলের জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ দুইয়ের মধ্যে ফারাক নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
শুধু রেখা পাত্র নয়, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা সত্ত্বেও কেন পরিস্থিতি আগেই সামলানো গেল না, বিধায়কের নিরাপত্তায় থাকা বাহিনীই বা কী ভূমিকা নিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ সত্য হলে পুলিশের সামনে এমন ঘটনা ঘটল কীভাবে, সেই জবাবও চাওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে রেখা পাত্রের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন প্রথমে পরিষেবার বাইরে এবং পরে বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার পর সন্দেশখালিতে বিজেপির আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের সামনেই যদি একজন বিধায়ককে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে প্রশাসনের ভূমিকা কোথায় সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
















