বকেয়া থাকা কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন এবার পুজোর পরেই সেরে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসেই এই দুই পুরসভায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ৫ ডিসেম্বরের আগেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই জোড়া পুরভোটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন। বিশেষ করে হাওড়া পুরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর বড়সড় প্রস্তাব রয়েছে। রাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত ১০ বছরে হাওড়া শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণেই বর্তমানে থাকা ৫০টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ৬০টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন বকেয়া পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তেরো বছর ধরে এই পুরসভায় কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা বোর্ড নেই। ফলে রাস্তাঘাট সংস্কার থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবা— সামগ্রিক পুর পরিষেবার হাল অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ শহরবাসীর। এই পরিস্থিতিতে পুর পরিষেবার মান উন্নত করতে এবং প্রশাসনিক স্তরে গতি আনতে নতুন সরকার সম্প্রতি জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়াকে পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।
একই সঙ্গে, নির্বাচন হওয়ার আগে পর্যন্ত শহরবাসীকে যাতে আরও সুন্দর ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়া যায়, তার জন্য স্থানীয় বিধায়কদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই তদারকি কমিটিতে রয়েছেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রাই নিজে, শিবপুর বিধানসভার বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং বালি বিধানসভার বিধায়ক সঞ্জয় সিং। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে একদিকে যেমন নাগরিক ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করা হচ্ছে, তেমনই নভেম্বর মাসের মহারণের জন্য কোমর বাঁধতে শুরু করল শাসকদল।
















