এবার বাঁকুড়ার হাফিজের পাশে দাঁড়াল CJP। রবিবার CJP-এর মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বাঁকুড়ায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। ঘটনার নিন্দা করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন  CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও। গ্রামের সরকারি স্কুলের বেহাল দশা চোখে পড়েছিল। সেই ছবি-ভিডিয়ো তুলে সামনে আনার চেষ্টা করেছিলেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের যুবক শেখ আবদুল হাফিজ। অভিযোগ, সেই কারণেই তাঁর বাড়িতে হামলা হয়। মারধরের জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিনের। ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার এই ঘটনায় হাফিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।

আরও পড়ুন: ভারতীয় দম্পতির বিদায়ে কেঁদে ভাসালেন আমেরিকান বন্ধু

ঘটনার সূত্রপাত হাফিজের সরকারি স্কুলকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে সরব হয়েছিলেন হাফিজ। স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। এরপর প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আনার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই উদ্দেশ্যেই স্কুলের পরিকাঠামোর ছবি ও ভিডিয়ো তুলে রাখেন বলে অভিযোগ। হাফিজ CJP-র সদস্য। এর আগে দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিও গিয়েছিলেন তিনি। গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে CJP-র কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর ২০ জুলাই রাজীব চকে পুলিশের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছিলেন তিনি। লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মধ্যেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে বলে দাবি। ২৭ জুলাই গ্রামে ফেরার পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের।

অভিযোগ, স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিয়ো করার পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক রাতে হাফিজের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে মারধরের পাশাপাশি ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিয়ো মুছে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর বাবা মাফিনও আক্রান্ত হন বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগ, ১৪ অগাস্টও তাঁদের বাড়ি কার্যত ঘিরে রাখা হয়েছিল। বাড়িতেই ছিলেন তাঁরা। পরে রাতে মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি সহযোগিতায় তাঁকে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মুখ্যমন্ত্রী রবিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, অভিযোগে নাম থাকা পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতার করা হবে। তাঁর দাবি, "এখানে বিজেপির কোনও ব্যাপার নেই। এরা সবাই দুষ্কৃতী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।" এই পরিস্থিতিতে হাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছে CJP। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে হাফিজের সঙ্গে দেখা করেন। CJP-র সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কাও সামাজিক মাধ্যমে হাফিজের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, CJP-র একটি প্রতিনিধি দল বাঁকুড়ায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে পাশে দাঁড়াবে। সংগঠনটির ‘School Thik Karo’ প্রচারের সঙ্গেই হাফিজের স্কুল-সংক্রান্ত উদ্যোগকে যুক্ত করা হচ্ছে।