“হিন্দিতে একটা কথা আছে না, হামে তো আপনো নে লুটা, গ্যারোঁ মে কঁহা দম থা! মেরা কসতি ওহা ডুবি জঁহা পানি কম থা। আমার অবস্থাও এখন ঠিক সেই রকম।” প্রকাশ চিক বরাইকের বিজেপিতে যোগদান এবং সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যসভার টিকিট পাওয়া নিয়ে আক্ষেপের সুর রাজ্যের বনমন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁয়ের গলায়। কুমারগ্রামের একটি দলীয় সভায় প্রকাশ চিকের নাম করে তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন প্রকাশ চিক বরাইক, সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে পদ্ম শিবির। উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ের হেভিওয়েট নেতা প্রকাশের এই ডিগবাজি দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকেরা একেবারেই ভালো চোখে নেননি। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তীর্ণ অংশে এ নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিলই, এবার তাতে ঘৃতাহূতি দিলেন খোদ বনমন্ত্রী।

দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সামনে বনমন্ত্রী বলেন, “এই যে প্রকাশ চিক বরাইক এত উলটো-পালটা কাজ করল, তার পরও বিজেপিতে যোগ দিয়ে দিল। যেখানেই যাচ্ছি, সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই একটাই প্রশ্ন— ওকে কেন নেওয়া হলো? একটাই দাবি, ওকে সরাতে হবে। কিন্তু আমি কীই বা বলব!” ক্ষোভ থাকলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবশ্য সরাসরি বিষোদগার করেননি তিনি। 

রাজনৈতিক মহলের মতে, আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইকের সঙ্গে কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ-এর অম্লমধুর সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। দু’জনের বাড়ি একই বিধানসভা এলাকায় হওয়ায় তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই দীর্ঘদিনের। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাঁদের এই দ্বৈরথ ব্যক্তিগত স্তরে নেমে এসেছিল। প্রকাশ বিজেপিতে আসায় সেই আদি ও নব্যর লড়াই যে আরও তীব্র হবে, মন্ত্রীর মন্তব্যেই তা স্পষ্ট। তবে প্রকাশ চিক বরাইক বিজেপিতে এলেও, তাঁর অনুগামী স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের জন্য যে পদ্ম শিবিরের দরজা বন্ধ, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বনমন্ত্রী।