এসআইআর-পরবর্তী (SIR) ভোটার তালিকায় যোগ্য নাগরিকদের নাম নিশ্চিত করতে এবার এক মাসের বিশেষ অভিযান চালাবে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এসআইআর হয়ে যাওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। যখন সারা দেশ জুড়ে জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) নিয়ে তোলপাড় তখনই চাপে পড়ে ফর্ম ৬ আনার কথা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর সময় কোনও কারণে তালিকায় নাম তুলতে না পারা বা যোগ্য ভোটার হয়েও বাদ পড়ে যাওয়া নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের নতুন করে ফর্ম ৬ (Form 6) ফিলাপ করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন: ভুয়ো চিকিৎসক চিহ্নিত হলেই কঠোর শাস্তি! চার দফা পদক্ষেপ রাজ্যের

 

এই অভিযানে মূল দায়িত্ব থাকবে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) উপর। এসআইআর-এর সময় যেভাবে BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন, এবারও একইভাবে তাঁরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাবেন। প্রতিটি পরিবারের ভোটারদের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেওয়া হবে। পরিবারের কোনও সদস্যের নাম তালিকায় নেই কি না, নতুন করে কেউ ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছেন কি না সেই তথ্য যাচাই করবেন BLO-রা। বিশেষ নজর থাকবে তরুণ এবং প্রথমবারের ভোটারদের দিকে।

বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় না থাকলে তাঁকে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় আনা হবে। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নাগরিককে ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, শুধু তালিকা যাচাই নয়, যোগ্য নাগরিককে চিহ্নিত করে আবেদন করার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবেন BLO-রা।

আরও পড়ুন: দুর্গা প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি-টেম্পোর সংঘর্ষ, মৃত অন্তত ৭

এই পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, তা নিয়ে রাজ্যস্তরে নজরদারির দায়িত্ব থাকবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO)। পাশাপাশি ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (AERO)-কেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে BLO-দের সংগৃহীত তথ্য ও আবেদন পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে যাবে এবং নিয়ম মেনে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এসআইআর ঘিরে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ এবং যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি বিতর্কের মধ্যেই কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগ। তবে কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই এক মাসের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল যোগ্য কোনও নাগরিক যাতে ভোটার তালিকার বাইরে না থাকেন, তা নিশ্চিত করা। ফলে আগামী এক মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই এবং ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াই হবে এই বিশেষ অভিযানের প্রধান কাজ।