খাতায়-কলমে যার অস্তিত্বের প্রমাণ মিলছে না, সেই আইনই নাকি বলবৎ হয়ে গিয়েছে রাজ্যে! সোমবার থেকে ‘গুণ্ডা দমন আইন’ চালু হওয়া নিয়ে শাসকদলের অতি-সক্রিয় প্রচারের বাজারে এখন এমনই এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় রাজ্য রাজনীতি। ঢাকঢোল পিটিয়ে নতুন নিয়ম চালুর দাবি করা হলেও, আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। আর এই চরম প্রশাসনিক অসঙ্গতি ঘিরেই এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন। 

সাধারণ নিয়ম অনুসারেই প্রশ্ন উঠছে, সরকারি কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কীভাবে একটি নতুন আইন রাতারাতি প্রযুক্ত হতে পারে? এই বিতর্কের আগুন আরও উসকে দিয়েছে বিলটিতে রাজ্যপালের সই থাকা না-থাকার বিষয়টি। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রাজভবনের চূড়ান্ত সিলমোহর ছাড়া কোনো বিলই আইনে রূপান্তরিত হতে পারে না। অথচ, প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর, এই বহুচর্চিত বিলে আদৌ রাজ্যপালের স্বাক্ষর পড়েছে কি না, তা নিয়ে খোদ শীর্ষ স্তরেই চরম ধোঁয়াশা রয়েছে। রাজভবনও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। 

সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো নবান্নের শীর্ষ মহলের এই ভূমিকা। আইন কার্যকর হওয়া নিয়ে চারিদিকে যখন এত জল্পনা ও সংশয়, তখন পরিস্থিতি পরিষ্কার করার বদলে সম্পূর্ণ নীরব প্রশাসন। কোনো পদস্থ আধিকারিক বা মুখপাত্র এই স্পর্শকাতর বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করতে রাজি হননি। 

প্রশাসনের এই ‘রহস্যময় নীরবতা’কে হাতিয়ার করেই ময়দানে নেমেছে বিরোধী শিবির। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে এটি আসলে শাসকদলের একটি ‘বায়বীয় আইনের জুজু’ দেখানোর মরিয়া চেষ্টা। সরকারিভাবে যে আইনের কোনো অস্তিত্বই এখনও প্রমাণিত নয়, তা নিয়ে আগাম প্রচার আসলে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার এক রাজনৈতিক চমক মাত্র কি না, সেই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে। নবান্নের মৌনতা সেই জল্পনাতেই আরও সিলমোহর দিচ্ছে।