বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই রেলের জমিতে গড়ে ওঠা দোকান ও বিভিন্ন নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল থেকেই সামশেরগঞ্জ থানার বাসুদেবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে গোটা চত্বরে। কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্টেশন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক রেল পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় থানার পুলিশ।

রেল সূত্রে খবর, বাসুদেবপুর স্টেশন চত্বরের জমি দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি ভাবে দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান তৈরি করা হয়েছিল। এলাকায় রেলের নিজস্ব রাস্তা সম্প্রসারণ এবং আন্ডারপাস তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে ওই জমি ফাঁকা করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। গত সপ্তাহেই দখলদারদের জমি খালি করার নোটিশ দেয় রেল। রবিবারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোমবার সকাল থেকেই বুলডোজার নামিয়ে অবশিষ্ট সমস্ত নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর মুখে বহু ব্যবসায়ী তড়িঘড়ি নিজেদের মালপত্র ও দোকানের ছাউনি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

রেলের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, যাত্রী পরিষেবা উন্নত করা, যোগাযোগের আধুনিকীকরণ এবং আন্ডারপাসের কাজ দ্রুত রূপায়ণের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও জায়গা খালি না করায় বাধ্য হয়েই উচ্ছেদে নামতে হয়েছে। রেলের সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজনে এই ধরনের অভিযান আগামি দিনেও জারি থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্য দিকে, হঠাৎ রুজিরোজগার হারিয়ে মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন ছাড়া গরিব ব্যবসায়ীদের দোকানঘর এ ভাবে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।