রেলের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে হকার কার্ড, তা সত্ত্বেও মাঝরাতে ঢাকুরিয়া স্টেশনে নামানো হলো বিধ্বংসী বুলডোজার। একদিনের নোটিশে প্ল্যাটফর্মের ওপর থাকা একের পর এক দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামতে হয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনীকে। একদিকে কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, অন্যদিকে পুজোর আগে উচ্ছেদ না করার বিষয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস— এই দুইয়ের পরেও কেন মাঝরাতে এমন আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বেআইনি দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। বিভিন্ন বাজার এলাকা, স্টেশন চত্বর, উড়ালপুলের নীচে এবং সরকারি জমিতে থাকা ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া শুরু হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের একাধিক এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। কিন্তু আদালতের প্রক্রিয়া চলাকালীনই বেশ কিছু জায়গায় বুলডোজার নামিয়ে দোকান ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে, যা হকার মহলে ক্ষোভের আগুন আরও উসকে দেয়।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আদালতের নির্দেশ ও সরকারি অবস্থান ঘিরে। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত হকার উচ্ছেদের ওপর স্থগিতাদেশ থাকবে। এর ওপর সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পুজোর আগে রাজ্যে আর কোনও রকম উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না। কিন্তু আদালতের সেই রক্ষাকবচ এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকুরিয়া স্টেশনে যে তাণ্ডব চলল, তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকান মালিকরা।
উচ্ছেদের শিকার হওয়া হকারদের দাবি, কেন্দ্রের তরফে দেওয়া বৈধ হকার কার্ড পুলিশ ও প্রশাসনকে দেখানো সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি। বুলডোজারের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশে যায় তাঁদের রুটিরুজি। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, তবে কি মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাস কি শুধুই মুখের কথাই ছিল? এর কি কোনও বাস্তবায়ন হবে না? চোখের সামনে দোকান ভাঙতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে মাঝরাতের এই ‘অ্যাকশন’ শয়ে শয়ে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে এক লহমায় অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিল বলে অভিযোগ তুলছেন হকাররা।
















