SSC-র ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানির লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালীন কমেন্ট সেকশনে অপশব্দ ও বিচারপতি-আইনজীবীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেই এ বার হাইকোর্টের লাইভ সম্প্রচারে কমেন্ট করার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জারি করল আদালত। বিচারপতি অমৃতা সিনহার (Justice Amrita Sinha) বেঞ্চের শুনানি চলাকালীন সোশাল মিডিয়ায় মন্তব্য করতে হলে সমাজমাধ্যমের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
হাই কোর্টের সোশাল মিডিয়া পেজে লাইভ শুনানি দেখার সময় কমেন্ট করার ক্ষেত্রে এ বার দর্শকদের সতর্ক করা হবে। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের (Live Streaming) সঙ্গে এমন একটি বার্তা যুক্ত থাকবে, যেখানে বলা হবে ‘বি সিভিল এন্ড রেসপেক্টফুল’। অর্থাৎ মতামত জানানো গেলেও মন্তব্যের ভাষায় শালীনতা এবং সম্মান বজায় রাখতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে লাইভ শুনানির কমেন্ট সেকশনেও নির্দিষ্ট আচরণবিধি কার্যকর হচ্ছে।
বিচারপ্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আদালতের শুনানি সোশাল মিডিয়ায় সম্প্রচার করা হয়। কিন্তু সেই সম্প্রচারের সময় কমেন্ট বক্সে বিচারপতি ও মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মত প্রকাশের সুযোগ থাকলেও তা যাতে অশালীন বা ব্যক্তিগত আক্রমণের জায়গা না হয়ে ওঠে, সেই বিষয়টিই এ বার গুরুত্ব পেল আদালতের নির্দেশে।
হাইকোর্টের এই পদক্ষেপের পাশাপাশি লাইভ আদালত সম্প্রচার ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও নজরে এসেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Chief Justice Surya Kant) বেঞ্চে নতুন মামলা মেনশনের সময় ভিডিয়ো কনফারেন্সের অডিয়ো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ভিডিয়ো সম্প্রচার চালু থাকলেও ওই অংশের কথোপকথন বাইরে থেকে শোনা যায়নি।
সুপ্রিম কোর্টের তরফে তখন জানানো হয়েছিল, জরুরি বিষয় মেনশন করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত, বিচার সংক্রান্ত কার্যপ্রণালীর অংশ নয়। সেই কারণে ওই পর্বকে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ না করার কথাও নির্দেশে বলা হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে আবার লাইভ শুনানির সঙ্গে যুক্ত কমেন্ট সেকশনের ব্যবহার নিয়েই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হল।
















