শ্রীরামপুরে কোর্ট ময়দানেই সভা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার এই অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টে থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ১০০০ লোক নিয়ে কর্মসূচি করা যাবে- বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ (Justice Sougata Bhattacharjee) এই নির্দেশ দিয়েছে। তবে, ওই দিন জিটি রোডে কোনও মিছিল করা বা যাতে যান চলাচল ব্যাহত করা যাবে না বলেও নিদের্শ দিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "আমি চাইছি আপনারা সভা করুন। আদালত অনুমতি দিতে প্রস্তুত। আদালত কখনওই বলছে না, অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করা যাবে না।"

শ্রীরামপুরের মাহেশে ১১ সেপ্টেম্বর পদযাত্রা ও সভা করা পরিকল্পনা করেছিল মমতাপন্থী তৃণমূল (TMC)। কিন্তু পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় জল গড়ায় হাই কোর্ট পর্যন্ত। মাহেশের স্নানপিঁড়ি ময়দানে মমতাকে সভা করার অনুমতি দিয়েছিল বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। কিন্তু ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় মাঠ সংলগ্ন জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ড। তাদের মতে, স্নানপিঁড়ি ময়দান ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে আর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না। এর জেরে সভা নিয়ে দোলাচল দেখা দেয়। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি ফের সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠায়। কর্মসূচির দিন পিছিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। গত ১১ সেপ্টেম্বর ফের মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে উঠলে তারা জানায়, মাঠ কর্তৃপক্ষের আবেদন বিবেচনা করে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই মতোই বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।

 বিচারপতি বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বরে চতুর্থ শনিবার আদালত ছুটি রয়েছে। ওই দিন তৃণমূল সভা করতে পারবে। সভা করার ক্ষেত্রে বেঁধে দিলেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। মিটিং করতে সমস্ত সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।

* হুগলি জেলা বিচারককে নিদের্শ সভা করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করবে।

* মামলাকারী বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত সভা করবে।

* শব্দ বিধি মেনে করতে হবে।

* কোন অপ্রীতিকর মন্তব্য করতে পারবে না।

* ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধে ৬টার মধ্যে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম, মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে বিকেল ৪টের মধ্যে।

* সভার স্টেজ যেন খুব বেশি বড় না হয়।

* ১০০০ হাজার মানুষের জমায়েত করতে পারবে। 

* শ্রীরামপুর থানার আইসিকে নিদের্শ সভা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বজায় রাখতে হবে।

* ডেকরেটর ও ইলেকট্রিসিটি কাজ হয়ে গেলে দ্রুত খুলে নিতে হবে।

 তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ বেধে যায় অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্লদ্বল ভট্টাচার্যের সঙ্গে। একে অপরের ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দুপক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ্য করেন, যে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকদের নাম জমা দেওয়া হবে তাঁদের গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ ।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্লদল ভট্টাচার্য জানান বেসরকারি জায়গায় সভা সমাবেশ করতে হলে অনুমতি নিতে হবে।

বিচারপতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা অন্য কোন জায়গায় কি মিটিং করতে চাইছেন? আপনাদের পছন্দের জায়গা গুরুত্ব দেবে আদালত। আপনি শ্রীরামপুর লোকসভার সাংসদ ফলে আপনার থেকে ভালো কেউ জানেন না। আপনারা যেকোনও অন্য জায়গা দেখেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন আমরা অন্য কোন জায়গায় যাবো না। আদালত নিজের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, আমি চাইছি আপনারা সভা করুন। আদালত অনুমতি দিতে প্রস্তুত, কিন্ত জগন্নাথদেব স্ন্যান ঘাট ময়দানে করতে পারবেন না, কারণ জমির মালিক অনুমতি দিতে অস্বীকার করছেন। প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ স্পট করে নিদের্শ দিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বরে যে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে আদালতে ওই নিদের্শে পুনর্বিবেচনা করতে। তাই আদালত চাইছে আপনাদের সভা করুন। আদালত কখনওই বলছে না অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করতে পারবে না।