”আমরা স্বাধীন থেকেও পরাধীন হয়ে গেছি। বেঁচে থাকার লড়াই, আজাদির লড়াই। ভারতমাতার লড়াই, বন্দে মাতারামের লড়াই। বাংলা পথ দেখাবে। সব রাজনৈতিক দলকে, এনজিওদের বলছি যাঁরা ভয় পথে নামছেন না তাঁরা পথে নামুন। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি ভয় পাবেন না”। গণতন্ত্র বাঁচাতে ফের ‘স্বাধীনতার লড়াই’য়ের ডাক দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার, নিজের স্যোশাল মিডিয়া (Social Media) পেজে যুব প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। 

নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য পদাধিকারীদের অন্ধকারে রেখেই এসআইআর নিয়ে একা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। গত ১০ মাসে কমপক্ষে ১৪ বার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। এই পরেই জ্ঞানেশের গ্রেফতারির দাবি জানান মমতা। তাঁকে সরানোর দাবি জানান অভিষেক। আপ নেতা কেজরিওয়ালও (Arvind kejriwal) জ্ঞানেশের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন। এর পরেই ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। বলেন, ”আমরা স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পরেও আমাদের এমনভাবে বাঁচতে বাধ্য করা হচ্ছে, যেন আমাদের কোনও স্বাধীনতা নেই। অত্যাচার চলছেই। প্রায় ১৪ হাজার মামলা হয়েছে, প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের উপর হামলা হয়েছে। গত কয়েকদিনে বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখেছেন কী হচ্ছে।” 

মমতার অভিযোগ, ”আমায় হাউজ অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল। মিটিং মিছিল করতে দেওয়া হয় না। উকিলদের মারছে। ভারতে স্বৈরাচারীদের জায়গা নেই। আপনারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেড়েছেন, কৃষকদের ভাতা কেড়েছেন, পেনশেন কেড়েছে, ২ মাস দেবে তারপর আর দেবে না। আর পুলিশের ড্রেস পরে বিজেপির ঝাণ্ডা ধরা যায় না। এরা চলে যাবে, আপনাকে পরিবার নিয়ে জীবন কাটাতে হবে।”

তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমোর কথায়, ”বাংলা নবজাগরণের জন্ম দেয়। আমি বলেছিলাম ঝড় উঠবে, ঝড় উঠে গেছে। দিল্লি পড়তেই জ্ঞানেশ ভ্যানিশ হয়ে যাবে। কেউ থাকবে না।” সংবাদ মাধ্যমকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ”সংবাদমাধ্যম, প্রেস এবং বিচারব্যবস্থার খুব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আমি আপনাদের সকলের কাছে আবেদন করছি, মানুষ যাতে বিচার পান, তা নিশ্চিত করুন। সবাই যদি চুপ করে থাকেন এবং শুধু নিজের পদোন্নতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা ভাবেন, তাহলে মানুষের হয়ে কথা বলবে কে?”

বাংলার আন্দোলনের ইতিহাস মনে করিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”বাংলার মাটি স্বাধীনতার আন্দোলন এবং নবজাগরণের জন্ম দিয়েছে। আমি বলেছিলাম, বাংলার মাটি থেকে একটা ঝড় উঠবে। সেই ঝড় ইতিমধ্যেই উঠে গিয়েছে। অত্যাচারের মাধ্যমে আমরা টিকে থাকি না। কিন্তু মানুষকে মনে রাখতে হবে, তাঁদের সম্মান ও অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং স্বাধীনতার পরেও আমাদের আবার পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর কথায়, ”এটা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, স্বাধীনতার লড়াই, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শে লড়াই, ভারতমাতার জন্য লড়াই, বন্দে মাতরমের জন্য লড়াই এবং জয় হিন্দের জন্য লড়াই। বাংলায় আমরা বলি জয় বাংলা, আর জয় বাংলাই জয়ী হবে।”

এই আন্দোলনে সবাইকে আহ্বান জানান মমতা। বলেন, ”আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, এনজিও এবং যাঁরা ভয় পেয়ে রাস্তায় বেরিয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না, তাঁদের সকলের কাছে আবেদন করছি, আপনারা এগিয়ে আসুন। আপনারা এগিয়ে এলে আমি আপনাদের পাশে থাকব। আপনারা আমাকে আক্রমণ করতে পারেন, গ্রেফতার করতে পারেন বা অত্যাচার করতে পারেন, কিন্তু আমি ভয় পাই না। আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কথায় বিশ্বাস করি, “নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়”।

মমতা বলেন, ”আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন হবে এবং আমরাও সেই আন্দোলনে অংশ নেব। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে হবে, যাঁরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করেছেন তাঁদের সরাতে হবে এবং ইআরও, আধিকারিক ও বাহিনীর যাঁরা অনিয়মে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ গণতন্ত্রকে রক্ষা করতেই হবে।” 

কয়েক মাস আগে সিজেপি-র নেতৃত্বে জেন জি-র আন্দোলনের কথা স্মরণ করে মমতা বলেন, ”আজ গোটা ভারতজুড়ে একটা ঝড় উঠেছে এবং আমরা সেই আন্দোলনের পাশে আছি। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন দেশে নতুন জাগরণ নিয়ে আসুক। নির্বাচন কমিশন হটাও, বিজেপি হটাও, মুখ্য নির্বাচন কমিশানার হটাও। যাঁরা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন, তাঁরা বিরাট ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে যদি আবার কোনও আন্দোলনের প্রয়োজন হয়, আমরা তার জন্য প্রস্তুত।”