তারাপীঠের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর রাজ্যের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল ও আবাসনগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, তারাপীঠের ঘটনাটিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পর্যটন দফতর সরাসরি অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র না দিলেও, ভবিষ্যতে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রের জন্য একটি সামগ্রিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দমকল দফতরের সহযোগিতায় তা রূপায়ণ করা হবে।
নবান্নে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, তারাপীঠ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে এমন ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরেই তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজ্যের সব পর্যটন কেন্দ্রের হোটেল ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোয় যাতে যথাযথ সুরক্ষা বজায় থাকে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে পর্যটন দফতরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই দফতরকে রাজ্যের অন্যতম প্রধান ও বিনিয়োগবান্ধব দফতরে পরিণত করার কাজ শুরু হয়েছে। তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন নীতি। যার মধ্যে রয়েছে গ্রিন হোমস্টে সার্টিফিকেশন, শহরাঞ্চলে বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট প্রকল্প এবং মহিলা ও আদিবাসী পরিচালিত হোমস্টে-তে বিশেষ উৎসাহদান। পর্যটনকে শিল্পনীতির সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি চা-বাগান পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজম নিয়েও আলাদা নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে।
উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক পর্যটন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন মন্ত্রী। দার্জিলিংয়ের টি ফেস্টিভ্যাল, সিটঙের অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল, মেঘমা থেকে সান্দাকফু ট্রেকিং এবং চা-বাগানের বাংলোগুলিকে পর্যটকদের রাত্রিবাসের উপযুক্ত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পে দার্জিলিংয়ের সঙ্গে সুন্দরবনকেও বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পে মিরিক, ধানকুড়িয়া, গজলডোবা, নবদ্বীপ থিম পার্ক এবং টাকির জন্য কয়েক শত কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে পর্যটকদের সুবিধা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য единый হেল্পলাইন এবং নতুন অ্যাপ-ওয়েবসাইট চালু হতে চলেছে। এ ছাড়া আগামী ১১ সেপ্টেম্বর চন্দননগরের ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবন পুনর্নির্মাণ, ২ অক্টোবর ব্যারাকপুরে ‘উৎসধারা’ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ময়দানে ঘুড়ি উৎসবের মতো একাধিক কর্মসূচির কথাও জানান শঙ্কর ঘোষ। পর্যটন দফতরে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক চালুর ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, পর্যটনকে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
















