ছাত্র-যুব সমাজকে আগামী দিনের সঠিক কাণ্ডারি কর তুলতে এবং ভয়মুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। বিজ্ঞানকে সামনে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, চলতি বছর বা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সিলেবাসে বড়সড় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। সমস্ত বড় বদল আসতে চলেছে ২০২৮ সাল থেকে। মন্ত্রী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস পর্যালোচনার জন্য অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি সিলেবাস কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

আরও পড়ুন: সময়ে পৌঁছায়নি ভবানীপুর ভোট-মামলার নথি! রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে রিপোর্ট তলব ক্ষুব্ধ হাই কোর্টের

আগে যে সরকারি বইগুলি বিনামূল্যে দেওয়া হতো, সেগুলিই যথারীতি দেওয়া হবে। নতুন করে আলাদা কোনও সরকারি বই এই মুহূর্তে যুক্ত হচ্ছে না। যে বইগুলি এতদিন কিনে পড়তে হতো, সেগুলি ছাত্রছাত্রীদের কিনে নিতে হবে।  আপাতত বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থাতেও কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগামী ২০২৭ সালের ২ জানুয়ারি 'বই দিবস' হিসেবে বিশেষভাবে পালন করা হবে।

আরও পড়ুন: NDA-তে নেই! 'মঙ্গল মিলন'-এ না থাকলেও বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে NCPI সাংসদরা

আসন্ন ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী—২০২৮ সালের সিলেবাস সম্পূর্ণ খতিয়ে দেখে পুনর্গঠিত করা হবে। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি (NEP) ২০২০-এর অনুসরণে একটি সম্পূর্ণ নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হবে। গুণী শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সবিস্তারে আলোচনা ও মতামত নিয়ে এই কারিকুলামের ড্রাফট তৈরি করা হবে এবং তা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই প্রকাশ্যে আনা হবে। সে সময় নতুন কোনো বই ছাত্রদের বিনামূল্যে দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়েও বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষায় রাজনীতির প্রভাব প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, সরকার কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভাবনায় চালিত হয় না। "তৃণমূল আমলে হয়েছে বলেই তা বাদ দিতে হবে—আমাদের সরকার এই ভাবনায় চলে না," স্পষ্ট মন্তব্য মন্ত্রীর। সরকারের কাছে মূল বিচার্য বিষয় হলো—ছাত্রছাত্রীরা এতে উপকৃত হচ্ছে কি না। সিলেবাস কমিটির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কমিটির সুপারিশ আসার পরেই তা বিবেচনা করা হবে। সবমিলিয়ে, বিজ্ঞানমনস্ক ও ভয়মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে।