দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen)। মঙ্গলবার তাঁর কসবার বাড়ির পাশাপাশি সিঙ্গুরের বাগান বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED)। সিঙ্গুর (Singur) বিধানসভার ছুটিপুরে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ি (Garden House) ‘মোহর’-এ মঙ্গলবার ভোরে অভিযান শুরু করেন ইডির (ED Raid) আধিকারিকরা। বাগানবাড়িটি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এ দিন ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ ছুটিপুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতে পৌঁছন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। আর এই অভিযান চলাকালীন প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি এবং স্থানীয় নেতৃত্বরা। তাদের দাবি, "সঠিক তদন্ত করে ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করতে হবে। এই পুরো ঘটনায় শুধু তিনি একা নন এরসঙ্গে যুক্ত ছিলেন বেচারাম মান্নাও। সিঙ্গুরের তোলাবাজি ঘটনা ঘটত। তাই অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।”
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর ভুয়ো পাস বিক্রির অভিযোগে ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ED হানা!
প্রায় সাত-আট বছর আগে ছুটিপুরে ফাঁকা জমি কিনে এই বাগানবাড়ি তৈরি করেন ইন্দ্রনীল সেন। বাড়িটির নাম রাখা হয় ‘মোহর’। ২০১৬ সাল থেকে তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রী ছিলেন তিনি। পরে চন্দননগরের বিধায়কও ছিলেন ইন্দ্রনীল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ওই বাগানবাড়িতে তাঁর যাতায়াত ছিল। মাসে দু’-তিনবার তাঁকে সেখানে আসতে দেখা যেত। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে বাইরের লোকজনেরও সেখানে যাতায়াত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে খবর, কলকাতার দুর্গাপুজোয় পরিক্রমার নামে ভুয়ো পাস বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তেই এদিনের এই অভিযান। চলতি বছর গত জুন মাসে বউবাজার কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং ‘মাস আর্ট’ নামে এক সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরে কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রচারের ক্ষেত্রে নিজেদের ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ বলে দাবি করে ইউনেস্কোর নাম, লোগো ইত্যাদিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে।
‘মাস আর্ট’ কোম্পানি নাকি চড়া দামে কলকাতার হেভিওয়েট দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রি করার নামে দুর্নীতি করেছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি তদন্তে নেমে জানতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে ১৭৪৯ টাকা থেকে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দাম ধার্য করা হয়েছিল ভুয়ো পাসের।
ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তারা দাবি করেছিল যে ইউনেস্কো যে ২৪ টি পুজোকে বাছাই করেছে তারা সেখানে পরিক্রমা ব্যবস্থা করে। এইজন্য ভিআইপি পাস কিনতে ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার জন, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার জন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার জন নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। সিঙ্গুর-সহ কলকাতার যে দশ জায়গায় তল্লাশি চলছে সেই তালিকায় প্রাক্তন মন্ত্রীর একাধিক আত্মীয়র বাড়িও রয়েছে।
















