কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং (Writers' Buildings) বা মহাকরণ সংস্কারের বরাত যাচ্ছে আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) হাতে? দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা এই ঐতিহ্যবাহী ভবনের সংস্কার নিয়ে রাজ্য সরকারের এমনটাই পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। 

সূত্রের দাবি, মহাকরণের বর্তমান পরিকাঠামো, ভবনের কাঠামোগত অবস্থা এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখতে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে ভবন পরিদর্শন করেছেন। যদিও এই বিষয়ে সরকারি ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনও ঘোষিত হয়নি।

ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই স্থাপত্যের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের একাধিক স্মরণীয় অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৩০ সালে বিনয় বসু , বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্তের (Binay Badal Dinesh) ঐতিহাসিক অভিযানও এই ভবনকে বাংলার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা দিয়েছে। ফলে ভবনটির সংস্কার ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

এই আবহেই বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি তত্ত্বাবধানে হেরিটেজ সংরক্ষণের পরিবর্তে কর্পোরেট সংস্থার হাতে মহাকরণকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তাদের দাবি, কেন্দ্রের শিল্পগোষ্ঠী নির্ভর নীতিরই প্রতিফলন এবার বাংলাতেও দেখা যাচ্ছে।

এদিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় গৌতম আদানির (Gautam Adani) আসার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেদিন নিউটাউনে (Newtown) একটি হাসপাতালের ভূমিপুজোতে আসার কথা রয়েছে তাঁর। ভূমিপুজোর পাশাপাশি সেদিন মহাকরণ সংস্কার সংক্রান্ত ঘোষণা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে কলকাতার কুমারটুলি ঘাটের (Kumartuli Ghat) সংস্কার নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই মহাকরণ সংস্কারের সম্ভাব্য যোগসূত্রকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ঐতিহাসিক এই ভবনের সংস্কার হলে তার সংরক্ষণ, ভবিষ্যৎ ব্যবহার এবং প্রকল্পের অর্থায়ন, সবকিছু নিয়েই স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিরোধীরা। উন্নয়নের নামে বাংলার ঐতিহাসিক স্থাপত্য যেন কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা।