ক্ষমতায় আসার পর কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিলেও রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কি ফের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে চলেছে? স্কুল সার্ভিস কমিশনের সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞপ্তি এবং ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে। পূর্বতন সরকারের আমলে শুরু হওয়া দ্বিতীয় এসএলএসটি পরীক্ষার মাঝপথে ওবিসি কোটা ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার পরিকল্পনা ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৫ সালের দ্বিতীয় এসএলএসটি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের ওবিসি সাব-ক্যাটাগরি বা আনরিজার্ভড ক্যাটাগরির তথ্য আপডেট করার জন্য ২০ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী পোর্টালের মাধ্যমে ওবিসি সাব-ক্যাটাগরি ও সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেট না করলে, তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসংরক্ষিত বা সাধারণ শ্রেণিভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রত্যন্ত এলাকার প্রার্থীরা ইন্টারনেট সংযোগ বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পোর্টাল অ্যাক্সেস করতে না পারলে তাঁদের ওবিসি সংরক্ষণের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমিশনের এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ।
কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলিতেও ১৭ শতাংশ ওবিসি কোটা বজায় রাখা হবে না এবং তা ৭ শতাংশ হিসেবেই কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মহলের একাংশের মতে, নিয়োগের মাঝপথে সংরক্ষণ নীতি বদল হলে তা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার রাস্তা খুলে দেয়। অতীতেও এই ধরনের আইনি জটের কারণে নিয়োগ বছরের পর বছর পিছিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। ফলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।