রাজ্যে গৃহহীনদের জন্য ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের হাতে দ্রুত পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যসচিব সহ বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ সচিবদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই পঞ্চায়েত দফতরকে এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা ছাড়ার পাশাপাশি কোনও অবস্থাতেই যাতে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতে দফতরকে বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্যের প্রায় ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেই বকেয়া প্রকল্পের গতি বাড়াতেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দ্রুত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নতুন সরকার। তবে অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে যে ধরণের অনিয়ম ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম জুড়ে যাওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠেছিল, তা মাথায় রেখে এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। উপভোক্তাদের তালিকা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলবে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারের ঘোষিত সমস্ত জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রূপায়ণ করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কোনও দফতর যাতে অযথা কাজ ফেলে না রাখে, সে বিষয়েও সচিবদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন মেনে কাজ শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সঙ্কোচনের ওপরও এদিন বিশেষ জোর দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে তাঁর সাফ নির্দেশ, জনস্বার্থে যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই খরচ করতে হবে। কোনও রকম অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসবহুল ব্যয় কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার একদিকে যেমন থমকে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে গতি এনে জনমানসে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে, তেমনই অন্যদিকে রাজকোষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পথেই হাঁটছে।
















