বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুকে (Sayantan Basu)  ঘিরে ভাঙড় কলেজে (Bhangar College) ফের উত্তেজনা। কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি সায়ন্তন বসু এদিন কলেজে একটি বৈঠকে যোগ দিতে গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান SFI-ISF পড়ুয়াদের একাংশ। কলেজের গেট বন্ধ করে স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পাল্টা কলেজের বাইরে থেকে স্লোগান দিতে দেখা যায় এবিভিপি (ABVP) সমর্থকদের। ফলে গেটের দু’দিকে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর।

আরও পড়ুন: মোদির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় ৫০০ টাকার জরিমানা? IIM জম্মুতে নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন কংগ্রেসের

সূত্রের খবর, কলেজে একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য এদিন সেখানে যান সায়ন্তন বসু। কিন্তু কলেজের গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় ভিতরে ঢুকতে পারেননি তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এই প্রসঙ্গে সায়ন্তন জানান, কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতি মিললেই তিনি ভিতরে ঢুকবেন। এরপর বেশ কিছুক্ষণ গাড়িতে অপেক্ষা করেন তিনি।

এদিকে, কলেজের গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের তরফে লাগাতার দিতে শোনা যায় বিজেপি-বিরোধী স্লোগান। অন্যদিকে, বাইরে থাকা এবিভিপি সমর্থকরাও পাল্টা স্লোগান দেন। দু’পক্ষের বিক্ষোভে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভাঙড় থানার (Bhangar Police Station) পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। সূত্রের খবর,উত্তেজনা বাড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই ঘটনার আগে, ১৪ সেপ্টেম্বরও ভাঙড় কলেজে আইএসএফ ও এবিভিপি (ISF-AVBP) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় দু’পক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের নলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় এবিভিপির অভিযোগ ছিল, কলেজের আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপিকার সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার সময় তাঁদের সমর্থকদের সঙ্গে আইএসএফের বচসা বাধে। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। বহিরাগতদের এনে তাঁদের উপর হামলা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছিল এবিভিপি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আইএসএফের দাবি ছিল, কলেজের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে বাইরে থেকে বিজেপি সমর্থকদের নিয়ে এসেছিল এবিভিপি। বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানানো থেকেই বচসা এবং পরে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে পাল্টা দাবি করে তারা। ওই ঘটনায় দু’পক্ষই ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এর মধ্যেই এদিন সায়ন্তন বসুকে ঘিরে নতুন করে বিক্ষোভের ঘটনায় ভাঙড় কলেজে ছাত্র রাজনীতি ও কলেজের পরিবেশ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।