নাবালিকা ধর্ষণ-খুন রবিবার সারা দিন উত্তপ্ত বারুইপুর। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এলাকা বেশি উত্তপ্ত হলে এদিন দুপুরের দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। মৃতের পরিবারকে আগামী মঙ্গলবার ভবানীভবনে আসার জন্য জানিয়েছেন। এরপরই ঘটনার তদন্তের জন্যে সন্ধে নাগাদ সিট গঠন করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। কীভাবে ঘটনাটি ঘটল এবং কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব এই দলের। আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। অন্য মামলাটি গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যাতে এক অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনায় মোট চার জন ব্যক্তি যুক্ত। এর মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দু’জন পলাতক।
ঘটনার পরে নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে কথা হয়েছে। সব অভিযোগ শোনা হবে এবং কোনও দোষীকে রেয়াত করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বারুইপুরের ঘটনায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে। ধর্ষণের মামলা এখনও (সন্ধে ৭টা অবধি) যোগ হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।
দফায় দফায় পথ অবরোধ ও রেল অবরোধের পরে এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই। তিনিও এই ঘটনায় সকল অভিযুক্ত গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
১১ বছরের নাবালিকা শনিবার বিকেলে খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও সে বাড়ি ফেরেনি। রাতভর আত্মীয়স্বজন ও আশেপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও হদিস পায়নি। পরিবারের অভিযোগ, এলাকারই চার যুবক ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। রবিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুরে ওই নাবালিকার দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। এই খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করার পর তথ্য প্রমাণ লোপাট করতে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমানও তাই, নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে।
















