রাজ্যে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বাংলায় নতুন সরকারের আমলে নতুন কালচার হচ্ছে ডিম ছোঁড়া। প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। আর যে বাংলা তৃণমূল সরকারের আমলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক নম্বরে ছিল, এই দু’মাসে তা নেমে গিয়েছে বিজেপির অন্যান্য ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। কেন্দ্রের সরকার একশো দিনের কাজ বন্ধ করার আগে পর্যন্ত বাংলা ছিল এক নম্বরে। এখন প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার একশো দিনের কাজের নাম বদলে ১ জুলাই থেকে ‘ভিবি-জি রাম জি’ বা ‘১২৫ দিনের কাজ’-এর প্রকল্প চালু করলেও কর্মদিবসের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলা। তিনদিনে ৫ হাজার কর্মদিবস তৈরি করতে পারেনি বিজেপির নতুন সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে চলছে না ‘ডবল ইঞ্জিন’। ১২৫ দিনের কাজের প্রথম তিনদিনে বাংলায় মাত্র ৩,৩৯৯ কর্মদিবস করতে পেরেছে। অন্য ডবল ইঞ্জিন রাজ্য— যেমন উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি সেই তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। এই রিপোর্ট খাস কেন্দ্রেরই। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান বলছে, ১ জুলাই প্রকল্প চালু হওয়ার পর প্রথম তিনদিনে অন্ধ্রপ্রদেশে ৯ লক্ষের বেশি, উত্তরপ্রদেশে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬৭৬ এবং গুজরাতে ২৯ হাজার ৭৭৪ শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। রাজস্থানেও লক্ষাধিক কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। তাহলে ডাবল ইঞ্জিনের বাংলা কেন পারল না। আসলে উন্নয়ন ভুলে এই সরকার এখন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ব্যস্ত।
বাংলায় জবকার্ড হোল্ডারের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। তাঁদের হাতে কাজ নেই। বাংলাবিরোধী বিজেপি এতদিন বাঙালির সঙ্গে বঞ্চনা করছিল। এখন নিজেদের হাতে রাজ্য আসার পরও আশানুরূপ কর্মদিবস সৃষ্টিতে ব্যর্থ। উন্নয়নের লক্ষ্য স্থির না থাকায় কোনও কাজই করতে পারছে না এই সরকার। ব্যস্ত পঞ্চায়েত ও পুরসভা দখল করতে। কিন্তু কী করে কাজ করতে হয়, তা জানে না এরা। পঞ্চায়েত ও পুরসভাকে নিষ্ক্রিয় কর দিয়ে এখন আর মানুষকে পরিষেবা দিতে পারছে না বাংলার ডাবল ইঞ্জিন।
















