নতুন শিল্পনীতি তৈরির পথে শিল্পমহলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চায় রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই শিল্পপতি, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন বণিকসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে নবান্নে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক করল রাজ্য প্রশাসন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, পর্যটনমন্ত্রী-সহ একাধিক শীর্ষ আমলা। সরকারের দাবি, নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্ত করার আগে শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা এবং পরামর্শ শুনেই নীতির খসড়া তৈরি করা হবে।
বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, শিল্পনীতি প্রণয়নের আগে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উদ্যোগপতিদের মতামত নেওয়াই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, যাঁরা শিল্প গড়েন, তাঁদের সমস্যার কথা তাঁরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই তাঁদের প্রতিটি মতামত গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে এবং তা নথিবদ্ধও করা হয়েছে। সেই সমস্ত পরামর্শ নতুন শিল্পনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হবে বলেও জানান তিনি।
তাপস রায়ের দাবি, এই সরকার শিল্পের স্বার্থে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ করতে চায়। অতীতের শিল্প বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, আগে নাকি শিল্পপতিদের ডেকে শিল্পের বদলে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে সময় নষ্ট করা হতো। কখনও গান গাওয়ার মতো বিষয়ও উঠে আসত। কিন্তু বর্তমান সরকার শুধুমাত্র শিল্প এবং বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়েই আলোচনা করছে।
শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংও। তাঁর বক্তব্য, শিল্পনীতি কোনওভাবেই আনুষ্ঠানিকতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে নির্ধারিত হবে না। বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বৈঠকে শিল্পপতিরা মূলত জমি বরাদ্দ, শিল্পে প্রণোদনা, সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থার কার্যকারিতা, শ্রম সংক্রান্ত সমস্যা এবং পরিবহণ ব্যবস্থার নানা বাধার বিষয়গুলি তুলে ধরেন। শ্রমমন্ত্রী জানান, খোলামেলা আলোচনায় কোনও বিষয়ই বাদ যায়নি। শিল্প গড়তে গিয়ে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, তা নিয়েই বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ছোট-বড় সমস্ত বণিকসভাই এই বৈঠকে অংশ নেয়। প্রত্যেকেই নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সেই সমস্ত সুপারিশ খতিয়ে দেখে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করবে। এরপর চূড়ান্ত সুপারিশ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে, যার ভিত্তিতেই নতুন শিল্পনীতির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
শিল্পনীতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এদিন মন্ত্রীদের বক্তব্যে উঠে আসে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এফসিআরএ বিলের প্রসঙ্গও। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, যাঁদের দেশপ্রেম রয়েছে এবং যাঁরা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তাঁরা এই বিলকে সমর্থন করবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস। অন্যদিকে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের দাবি, কিছু বিদেশি অর্থপুষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ সামনে আসায় এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
















