রাজ্যের ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ডিসকোয়ালিফিকেশনের(পদ খারিজ) আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল  প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে৷ এই মামলায় আপাতত কোনও রায় না দিলেও একটি নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।  সময় নির্দিষ্ট করে দিয়ে বিধানসভার স্পিকারকেই এই ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। “দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ, এই আশা আমরা করতে পারি”, মামলা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতির৷

 

বিধানসভা ভোটে ফলাফল প্রকাশের পরই তৃণমূল দলে ভাঙন ধরে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ।এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল দল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করলেও বিধানসভার  স্পিকার তা খারিজ করে দেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হয়। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি অস্থায়ী। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহাসহ ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতাপন্থী তৃণমূল দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

 এই দশ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে তাদের পদ খারিজের আবেদন জানান তিনি। গত ৮ জুলাই এই আবেদন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও স্পিকার ঋতব্রতদের বিধায়ক পদ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেননি। শীর্ষ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তি আবেদন করেন শোভনদেব।  ঋতব্রতদের পদ খারিজ না করলেও এই বিষয়ে রাজ্য বিধানসভার স্পিকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। যদিও বিচারপতি স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন। ৮ অক্টোবরের মধ্যে এই দশ বিধায়কের বিধায়ক পথ খারিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্পিকারকে রথীন্দ্র বোসকে। কারণ ৮ অক্টোবর তিন মাস হয়ে যাবে। 

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা আশা করছি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার এই বিষয়ে অবগত এবং যথাযথ সময়ের মধ্যেই তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত নেবেন।”প্রসঙ্গত, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাছাই নিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা চলাকালীনই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতা পন্থী তৃণমূল। আপাতত বিষয়টি ফিরল স্পিকারের কোর্টেই।