অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। নামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে মোটা টাকা খরচ করে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি। নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল (Police Constable) পদে চাকরি পান মোহন্ত হালদার। চাকরি (Job) পাওয়ার পর নিজের সেই লড়াইয়ের গল্প শুধু নিজের মধ্যেই আটকে রাখেননি তিনি। বরং অর্থের অভাবে যাঁরা পুলিশে চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারছেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। থানার দায়িত্ব সামলে অবসর সময়ে শুরু করেন বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ। আর সেই উদ্যোগেই এল বড় সাফল্য। তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২৩ জনের মধ্যে ২১ জনই এবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফিরছে আটের দশকের চেনা নস্ট্যালজিয়া! নতুন রুটে রাজকীয় এন্ট্রি নিচ্ছে ই-দোতলা বাস

কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police)  লেদার কমপ্লেক্স থানায় কর্মরত মোহন্ত ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের প্রস্তুতি করিয়েছেন। লিখিত পরীক্ষা থেকে শুরু করে নিয়োগের পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত প্রার্থীদের পাশে ছিলেন তিনি। বিনিময়ে কারও কাছ থেকে নেননি কোনও পারিশ্রমিকও। কখনও সোনারপুর তেমাথায় নিজের বাড়িতে, আবার কখনও লেদার কমপ্লেক্স থানার অফিসঘরে চলেছে তাঁর ক্লাস। শুধু বই পড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি মোহন্ত। পরীক্ষার হলে কী ভাবে সময় ভাগ করে নিতে হবে, কোন প্রশ্ন আগে করা উচিত, কী ভাবে মক পরীক্ষা দিতে হবে—সবকিছুই হাতে-কলমে বুঝিয়েছেন তিনি। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের দুর্বল জায়গাগুলিও চিহ্নিত করতেন।

চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য ১৫ নম্বরের মক টেস্টেরও ব্যবস্থা করেছিলেন মোহন্ত। তাঁর লক্ষ্য ছিল, পরীক্ষার্থীরা যাতে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন না করে, পরীক্ষার পরিবেশের সঙ্গেও অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপেও তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর তাতেই কনস্টেবল পরীক্ষায় সফল হলেন ২১ জন পরীক্ষার্থী। লেদার কমপ্লেক্স থানার ওসি দীপঙ্কর বিশ্বাস মোহন্তর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নিজের সরকারি দায়িত্ব সামলেও প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য মোহন্ত যে ভাবে সময় দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তাই মোহন্ত হালদারের গল্প শুধু এক পুলিশকর্মীর সাফল্যের গল্প নয়। নিজের লড়াই থেকে পাওয়া শিক্ষা অন্যের পথ চলার পাথেয় করে তোলারও গল্প। বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়ে ২৩ জনের মধ্যে ২১ জনকে সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, কখনও কখনও একজন মানুষের সামান্য উদ্যোগও অন্য অনেকের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।