তারাপীঠের পর আবার কলকাতার বুকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা! প্রশাসনের ব্যর্থতা থেকে পিঠ বাঁচাতে নানারকম রাজনীতি করছে বিজেপি সরকার। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর জবাব দিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুন প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, এতগুলো মানুষের মৃত্যু হল এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস গভীর শোকাহত। অনঅভিপ্রেত, অবাঞ্ছিত, অপূরণীয় ক্ষতি পরিবারগুলির। যারা এর জন্য দায়ী তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এটা কোনও রাজনীতি করার বিষয় নয়, শুধু দোষীদের শাস্তি কাম্য। যদি সেখানে কোনও অনিয়ম থাকে বা নজরদারিতে ত্রুটি থাকে এটা দেখা উচিত।
এখানেই কুণাল ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রত্যেকবার একটা করে ঘটনা ঘটছে তখন কিছু সময় এটা নিয়ে নাড়াচাড়া হয়। এর আগেও তো একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেটা যে-সময়ই হোক না কেন প্রশ্ন হচ্ছে সেই কমিটির সদস্যরা কী করলেন? তাঁদের রিপোর্ট কী হল? কমিটির সদস্য যাঁরা ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ আহমেদ খান। এঁরা কেউ প্রাক্তন মেয়র, প্রাক্তন পুরমন্ত্রী, কেউ আবাসন মন্ত্রী, কেউ আবার বিপর্যয় মোকাবিলার— তা হলে এঁদের তো এখন ব্যাখ্যা দিতে হবে! এটা নিশ্চিতভাবেই একটা দুর্ঘটনা। তারাপীঠেও দেখা গিয়েছে আগুন লাগাল কিন্তু মানুষগুলিকে একটু সতর্ক করে তুলে আনা গেল না? কলকাতাতেও একটি বাচ্চা-সহ ৯ জন মারা গেল। এত ঘন-ঘন ১৮ জনের মৃত্যু হল কলকাতা ও তারাপীঠ মিলিয়ে।
বিজেপির সরকারের দিকে তোপ দেগে বিধায়ক প্রশ্ন তুলে দেন, ১০০ দিনের সরকার ১০০ দিনের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে খতিয়ান দিচ্ছেন কাজের তাহলে তারা এই দায় নেবে না কেন? রং বদলে নাম বদলে সব কৃতিত্ব নিতে ব্যস্ত বলেও বেইমানদের নাম না করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বিধায়ক বলেন, এখন তো থ্রি টায়ার পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। থ্রি টায়ারের ব্যাখ্যা দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, রাজ্য-কেন্দ্র বিজেপির আবার কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ডও বিজেপির নিয়ন্ত্রণে। যাঁরা ভালো তৃণমূল তাঁরা এখন বিজেপির কোলে দোল খাচ্ছে। তা হলে নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিন বলেও কটাক্ষ করেছেন বিধায়ক। এরপর ফের কমিটির কাজগুলি ইমপ্লিমেন্ট হচ্ছে কি না কেউ দেখছে না বলেও সরব হন তিনি।
















