অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে নামলেন মহিলারা। কোথাও প্রশাসনিক দফতরের সামনে জমায়েত, কোথাও আবার রেললাইন ও রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ দেখানো হয়। উপভোক্তাদের একাংশের দাবি, বারবার নথি ও তথ্য যাচাই করানোর পরেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। অথচ একই প্রকল্পে অন্যরা টাকা পেয়েছেন। ফলে প্রকল্পের তালিকা তৈরি ও যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ, টাকা না পেয়ে পথে মহিলারা
Sponsored

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে, তালিকা তৈরির সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের কারণে কোনও ভুল হয়েছে কি না। অভিযোগ, প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের জেরে প্রকৃত উপভোক্তাদের একাংশের নাম বাদ পড়ে থাকতে পারে। তবে এআই-এর ভুলেই যে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার কোনও সরকারি নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই এখন বড় বিষয়। ভোটার তালিকার এসআইআর (SIR) পর্বে এআই-নির্ভর যাচাই নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গও নতুন করে সামনে এসেছে। ঘটনাচক্রে, সেই সময়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল (Chief Electoral Officer Manoj Kumar Agarwal) বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যসচিব।
এ দিন পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভকারী মহিলাদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Minister Agnimitra Pal)। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, টাকা পাওয়ার জন্য তাঁদের এক দফতর থেকে অন্য দফতরে পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করে জানান, ভেরিফিকেশনের সময় কেন নাম বাদ গিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথি এসডিও বা বিডিও দফতরে জমা দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি ও হাবড়ায় রেললাইন অবরোধের জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। হাবড়া পুরসভাতেও বিক্ষোভ দেখান মহিলারা।
অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে কলকাতার ফুলবাগান ও বেহালা চৌরাস্তা, হুগলির চণ্ডীতলা ও তারকেশ্বর, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ও বড়জোড়া, পুরুলিয়া, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর এবং আলিপুরদুয়ারের ধূপগুড়িতেও বিক্ষোভের খবর মিলেছে। কোথাও বিডিও অফিস ঘেরাও করা হয়েছে, কোথাও রাস্তা অবরোধ হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও টাকা না মেলায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়েও কেন তাঁদের নাম বা টাকা আটকে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর চাইছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রশাসনের আশ্বাসের পরেও দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে এই ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













