Site Logo

'উড়ন্ত ডাচ জাহাজ', উৎপল সিনহার কলম

EBBS Desk·
'উড়ন্ত ডাচ জাহাজ', উৎপল সিনহার কলম

[caption id="attachment_492704" align="alignnone" width="100"] উৎপল সিনহা[/caption]

Sponsored

Sranchi In Article

যে জাহাজ কখনও বন্দরে পৌঁছোতে পারে না , চিরকাল নাকি সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়ায়, অভিশপ্ত এক জাহাজ, যাকে লোকে বলে প্রেতাত্মা জাহাজ, ভূতুড়ে জাহাজ, যে জাহাজের দেখা পাওয়া মানেই আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস , তারই নাম Flying Dutchman , উড়ন্ত ডাচ জাহাজ। এ এক ইউরোপীয় সমুদ্র কিংবদন্তি, প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর গঠিত এক রহস্যকথা।

Sponsored

Merlin In Article

এই কিংবদন্তির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা হয় এতে মরীচিকার প্রভাব থাকতে পারে, যা জাহাজকে সমুদ্রের ওপর ভাসমান দেখায়। একজন ডাচ ক্যাপ্টেন, নাম ভ্যান্ডার ডেকেন, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পণ করে ঝড় উপেক্ষা করে cape of good hope পার হওয়ার চেষ্টা করেন। যার ফলস্বরূপ তাঁর জাহাজটি চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হয়। এই জাহাজটি দেখলে নাকি নাবিকদের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে ,এমনই প্রচলিত বিশ্বাস । এর বাস্তববাদী ব্যাখ্যায় বলা হয় মারাজ নামক এক ধরনের মরীচিকা, যা বায়ুমণ্ডলের বিশেষ অবস্থায় জাহাজের প্রতিবিম্বকে ওপরে তুলে ধরে ভাসমান দেখায়, যা থেকে এই ' উড়ন্ত ' ধারণাটি এসেছে।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

' উড়ন্ত ডাচ জাহাজ ' মূলত লোককথা হলেও এর পিছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা এই কিংবদন্তিকে আরও রহস্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। Cape of good hope বা উত্তমাশা অন্তরীপ, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের একটি বিখ্যাত পাথুরে স্থান , যে অঞ্চলটি অতীতে ঝড়ের অন্তরীপ নামে পরিচিত ছিল এবং ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থল নির্দেশ করে।

Sponsored

Camelia In Article

এবার জনশ্রুতিবাহিত মূল কাহিনীতে চোখ রাখা যেতে পারে। সময়টা সম্ভবত সপ্তদশ শতক। Flying Dutchman
জাহাজটি একটি কোম্পানির হয়ে বানিজ্য অভিযানে বেরিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূল হয়ে সেই জাহাজ চলেছিল নেদারল্যান্ডস-এর দিকে। জাহাজে ছিল মশলা, রঞ্জক, সিল্ক ইত্যাদি। জনশ্রুতি এই যে, ফেরার পথে প্রচণ্ড ঝড়ের মুখে পড়ে এই জাহাজ। তখন এই জাহাজ কেপ অফ গুড হোপ - এর খুব কাছাকাছি। যেখানে প্রতি মুহূর্তে ডুবো পাথরে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা সেখানেই উঠলো প্রচন্ড ঝড়, যাকে বলা হয় সামুদ্রিক ঝঞ্ঝা, যার ফলে জাহাজ দুলতে লাগলো উথালপাথাল ঢেউয়ের ঝাপটায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে উঠলো নাবিকেরা । কিন্তু এই অবস্থাতেও জাহাজ থামাতে রাজি হলেন না জাহাজের ক্যাপ্টেন ভ্যান্ডার ডেকেন। তখন বিদ্রোহ করলেন নাবিকেরা। কিন্তু তাতেও দমে না গিয়ে এক এক করে নাবিকদের হত্যা করে সমুদ্রের বুকে ছুঁড়ে ফেলতে লাগলেন ক্যাপ্টেন। সমস্ত নাবিক মারা গেলেন। এরপর জাহাজটির কী হয়েছিল তা আজ ৪০০ বছর পরেও অজানা। এর কোনো ধ্বংসাবশেষও মেলে নি।
তারপরই অন্যান্য জাহাজের নাবিকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে একটা ' মিথ ' । বলা হয় দেবতার অভিশাপে নাকি পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়াতে হবে এই জাহাজকে। এও বলা হয় যে, হঠাৎ হঠাৎ নাকি ফ্লাইং ডাচম্যানকে দেখা যায় উপকূল বা জাহাজ থেকে।

Sponsored

Techno India In Article

কেপ অফ গুড হোপ-এর নাম আগে ছিল ' কেপ অফ স্টর্ম ' । এই নাম দিয়েছিলেন এক পর্তুগিজ অভিযাত্রী।
এখানে রয়েছে অজস্র ডুবোপাথর। তাতে ধাক্কা লেগে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা এবং সলিল সমাধি ঘটতে পারে জাহাজের। কেপ অফ গুড হোপ-কে অনেকে বলেন জাহাজের কবরস্থান। ভূতুড়ে জাহাজ নিয়ে ভূতুড়ে গুজব রটনার অনেক কারণ রয়েছে সমুদ্রের অগভীর তলদেশের এই ভয়ঙ্কর রহস্যময় অঞ্চলটি ঘিরে। এমনিতেই নাবিকেরা এই প্রাণঘাতী স্থানটি এড়িয়ে যেতে চান নানা কারণে। তার ওপর ৪০০ বছর আগেকার অভিশপ্ত জাহাজটির অন্তিম পরিণতির কথা কিছুতেই জানা যায় না। সেই জাহাজ আজও অভিশপ্ত আত্মার মতো ঘুরে বেড়ায় সাগরের বুকে। কখনও বা ধাওয়া করে, তাড়া করে অন্য জাহাজকে। সেই জাহাজ তখন দিশেহারা হয়ে পালাতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ধাক্কা খায় ডুবো পাথরে , আর সেখানেই রচিত হয় পলায়নপর জাহাজের অন্তিম পরিণতি । তাই ভুলেও নাবিকেরা দেখতে চান না
অভিশপ্ত ফ্লাইং ডাচম্যান জাহাজটিকে।

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from বিশেষ

View All →