Site Logo

'কচ্ছপ নীতি ও খরগোশ', উৎপল সিনহার কলম 

EBBS Desk·
'কচ্ছপ নীতি ও খরগোশ', উৎপল সিনহার কলম 

[caption id="attachment_492704" align="alignnone" width="100"] উৎপল সিনহা[/caption]

Sponsored

Sranchi In Article

এক যে ছিল কচ্ছপ, আর ছিল এক খরগোশ।
ওঃ, আবার সেই প্রাচীন গপ্পো, নীতি শিক্ষে !
হ্যাঁ হ্যাঁ, খুব মনে আছে, শেষপর্যন্ত খরগোশ হেরে যায় তো ?

Sponsored

Merlin In Article

হারবে না ? এক দৌড়ে একেবারে বুড়ি ছুঁয়ে তারপর যা খুশি কর। তা না, মাঝপথে একটু জিরিয়ে নিতে গিয়ে উনি ঘুমিয়ে পড়লেন! অবশ্য খরগোশ জিতলে কি সে গপ্পো কেউ পড়বে? কুকুর মানুষকে কামড়ালে সেটা কি কোনো খবর ? জবরদস্ত খবর হয় মানুষ কুকুরকে কামড়ালে। সে যা হোক, একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। গভীর প্রশ্ন।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

খরগোশ আর কচ্ছপের সেই দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল কে বা কারা? বিচারক ছিলেন কারা? বিচারকবৃন্দ দৌড়ের মাঝপথে খরগোশকে ঘুমোতে দিলেন, মানে অ্যালাউ করলেন কেন ? খরগোশ যখন অর্ধেক পথ গিয়ে পিছন ফিরে কচ্ছপকে অনেক পিছনে পড়ে থাকতে দেখে হঠাৎ শুয়ে পড়লো , তখন মাননীয় বিচারকদের একবারও মনে হলো না যে, বেচারা খরগোশ বোধহয় বেশি জোরে ছুটতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে , ওকে সুস্থ করে তুলতে দ্রুত একটা মেডিক্যাল টিম পাঠানো দরকার! কী নির্মম বিচার রে বাবা। তাঁরা কি নিরপেক্ষ থাকতে পারেন নি? তাঁরা কি যেন-তেন-প্রকারেণ জেতাতে চেয়েছিলেন কচ্ছপকে? এই ভয়াবহ পক্ষপাতিত্বের কারণ কি? তবে হ্যাঁ, এটাও ভাবতে হবে যে, ঘন অরণ্যের ভেতরে প্রতিযোগিতা তো, তাই বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে একটু আধটু কাঁদতেই পারে!

Sponsored

Camelia In Article

বিচারকদের মধ্যে শেয়াল থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবসময় যে গাধারাই বিচার করবে এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? যদিও, সবটাই তো গপ্পো। গপ্পে কি না হয় ! আরেকটা সুগভীর প্রশ্ন ।

Sponsored

Techno India In Article

আজ যদি আবার ওই ' রেস ' টা হয়, তাহলেও কি ফলাফল একই হবে? খরগোশ কি আবার মাঝপথে ঘুমিয়ে পড়বে? কে জানে ! খরগোশটা কি অসুস্থ ছিল? এবার কচ্ছপের দিকে একটু তাকানো যাক। প্রাচীন গল্পের মতোই কচ্ছপ নিয়ে আর একটা রূপক খুব জনপ্রিয়। তা হলো কচ্ছপ তত্ত্ব ( turtle theory ) বা কচ্ছপ নীতি। এই থিওরির দর্শন হলো, আপনি কতটা দ্রুত এগোচ্ছেন তা বিষয় নয়, আপনি লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত একবারও থামছেন না সেটাই আসল কথা। মনে রাখতে হবে জীবনটা কোনো প্রতিযোগিতা নয়। গন্তব্যে পৌঁছানোটাই মূল লক্ষ্য। ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে লক্ষ্যের দিকে এগোতে হয়।

Sponsored

Probe In Article

নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি এবং কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এই তত্ত্বের অন্যতম জরুরি শিক্ষা। প্রতিদিন অল্প অল্প করে কাজ করে যেতে হবে, থামলে চলবে না। দ্রুত ফলাফলের আশা না করে সময়ের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। নিজের কাজের প্রতি অটুট বিশ্বাস এবং নিবিড় মনোযোগ ধরে রাখতে হয়।

ধৈর্য এখানে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই থিওরি মানসিক চাপ কমায়। কাজের প্রতি একাগ্রতা আনে। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকার কথা বলে কচ্ছপ নীতি। সঙ্কটকালে কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

কোনো পরিস্থিতিতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়লে চলে না। সাহস হারালে চলে না। খেয়াল রাখতে হবে, কচ্ছপ ( tortoise ) আর কাছিম ( turtle ) কিন্তু এক নয়। কচ্ছপ ডাঙায় বাস করে, স্থলচর। অন্যদিকে, কাছিম প্রধানত জলচর, জীবনের অধিকাংশ সময় জলে কাটায়। কচ্ছপ তৃণভোজী, কাছিম সর্বভুক। এখানে উল্লেখ্য, বেশিরভাগ মানুষ আজকাল ' কাছিম ' শব্দটা আর ব্যবহার করেন না।

এসবই সত্যি। তবে, খরগোশের মতো ছটফটে সুন্দর একটি প্রাণী গল্পে চিরকাল নিন্দিত হয়ে থাকবে, এটাও কাম্য নয়। এই অবিচারের একটা বিহিত হওয়া উচিত। খরগোশকে ভিলেন বানানো হয়েছে কচ্ছপকে হিরো বানানোর জন্য। কেন, নীতিশিক্ষের জন্য জন্তু-জানোয়ার কি কম পড়িয়াছিল যে, সবাইকে ছেড়ে ফুটফুটে খরগোশকে বেছে নিতে হলো ? এটা ষড়যন্ত্র নয়?

তাই এবার জঙ্গলের বাইরে একেবারে জনসমক্ষে খরগোশ ও কচ্ছপের মধ্যে আর একটা দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হোক। এটা খুব দরকার। এবার কিন্তু মেডিক্যাল টিম থাকবে, অ্যাম্বুলেন্স থাকবে, কোনো শেয়াল বা গাধা বিচারকের আসন অলংকৃত করার সুযোগ যেন না পায়। নতুন যুগের ভোরে গপ্পোটা আবার নতুন করে লেখা হোক।

আরও পড়ুন - IPL: জয়ের মধ্যেই পাথিনারাকে নিয়ে ফের উদ্বেগ, প্লে-অফ নিয়ে কী বললেন রাহানে?

Related Articles

More from বিশেষ

View All →