শীতের মরশুমে দিল্লির বায়ুদূষণ (Delhi's Air Pollution) নিয়ন্ত্রণে এবার আগেভাগেই বড়সড় পদক্ষেপ ঘোষণা করল দিল্লি সরকার (Delhi Government)। দূষণের মাত্রা বাড়ার আগেই পরিস্থিতি সামাল দিতে নেওয়া হয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত। তালিকায় রয়েছে পার্কিং চার্জ দ্বিগুণ করা, নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মীর Work From Home (WFH) চালু করা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে বাড়বে পার্কিংয়ের খরচ। একইসঙ্গে ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে চালু থাকবে অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন। এই সময়ে MCD-র অধীন অফিসগুলি সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং দিল্লি সরকারের অধীন অফিসগুলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে।

আরও পড়ুন: পুরভোটেও কি নতুন সিম্বল? তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ মামলায় কমিশনকে সময় দিল শীর্ষ আদালত

শুধু সরকারি দফতর নয়, সরকারি ও বেসরকারি—দুই ক্ষেত্রেই কর্মীসংখ্যা ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৫০ শতাংশ কর্মী অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ করবেন, আর বাকি ৫০ শতাংশ কর্মী Work From Home করবেন। দূষণের অন্যতম উৎস ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েক সপ্তাহের জন্য এমন সমস্ত নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ থাকবে, যেগুলি থেকে ধুলো ও দূষণ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে শীতের দূষণ মোকাবিলায় দিল্লিতে Odd-Even নীতি সহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় গাড়ির নম্বর জোড়-বিজোড় অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে দিল্লির বায়ুদূষণের জন্য শুধু যানবাহনকেই দায়ী করা হয় না। ধুলো, শিল্পক্ষেত্রের দূষণ এবং অন্যান্য উৎসও দূষণের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: খেলতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি! ২৫০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে মৃত্যু ৩ বছরের নেহার

প্রসঙ্গত,শীতকালে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো বা Farm Fire। বিশেষ করে পঞ্জাব ও হরিয়ানায় ফসল কাটার পর অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ঘটনা থেকে তৈরি ধোঁয়াকে দিল্লির শীতকালীন দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে দিল্লির বায়ুদূষণ দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সমস্যা। শীতের সময়ে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতি ও বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ফলে শীত আসার আগেই দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর।