নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন নাম ও প্রতীকে শুধু উপনির্বাচনে নয়, আগামী পুরসভা ভোটও হয়ত লড়তে হবে তৃণমূলের (TMC) দুই শিবিরকে। সোমবার ‘প্রতীক-ফ্রিজ’ মামলার শুনানি শেষে  কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনকে তিনমাস সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই নির্দেশের ফলে রাজ্যে বিভিন্ন পুরসভা নির্বাচনেও মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থীদের স্থায়ী প্রতীক মিলবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। 

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) পরে তৃণমূলে ভাঙন ধরে। একদিকে মমতাপন্থী তৃণমূল ও অন্যদিকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন শিবির। দুই শিবিরই জোড়াফুল প্রতীক ও তৃণমূল নামের দাবিতে কমিশনে আর্জি জানায়। দফায় দফায় বৈঠক করে ও নথি জমা নেওয়ার পর তৃণমূলের ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর, এই সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই নাম ও প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বদলে দুই শিবিরকে দুটি আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়। যদিও অরূপ-ঋতদের প্রতীক নিয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলা হয়েছে। এদিকে নির্বাচন কমিশেনর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 
আরও পড়ুন: ঋতব্রতদের পদ খারিজ নিয়ে ৩ মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার,‘ আশাবাদী’ সুপ্রিম কোর্ট

সেই মামলার শুনানিতে এদিন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা ৪ সপ্তাহ সময় দিচ্ছি। সবপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে তার মধ্যে। এর পরে তিন মাসের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে কমিশনকে। উভয় পক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজন হলে যে কোনও পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে।

সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও সময় দিল কমিশনকে। মমতা তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে বলেন, পুরভোটে যাতে তারা পুরনো জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে লড়তে পারেন, সে জন্য বিতর্কের দ্রুত নিষ্পত্তি করুক কমিশন৷ তবে, সেই আবেদনের আমল না দিয়ে নির্দশ দিল শীর্ষ আদালত। ফলে পুরভোটে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই লড়তে হবে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরকে- এমনটাই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।