স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন ঝাড়খণ্ডের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। 'ভারত মাতা কি জয়', 'বন্দে মাতরম' স্লোগানে মুখর রাঁচির রাজপথ থেকে আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা করলেন তাঁরা। JPSC এবং JSSC নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে টানা ২২ দিন ধরে চলছে আন্দোলন। এরমধ্যেই আগামী ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয় 'তিরঙ্গা যাত্রা'। জাতীয় পতাকা হাতে কয়েক হাজার পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থী মিছিলে যোগ দেন। আলবার্ট এক্কা চকে গিয়ে শেষ হয় সেই মিছিল। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না ফেরা পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।
JPSC-JSSC Reforms Manch-এর নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ানের দাবি, JMM-কংগ্রেস জোট সরকার তাঁদের অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। আগামী ২০ অগাস্টের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তার আগে রবিবার রাজ্যের ২৪টি জেলায় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচি নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনে রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, রাহুল প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার কথা বললেও বাস্তবে তাঁদের দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। পড়ুয়াদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেও রাহুলের তরফে কার্যত কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
JSSC-CGL এবং JPSC পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলি বাতিল করে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আরও দাবি, নিয়োগ ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি বাতিল রাখতে হবে। পাশাপাশি, গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য বিচার দেওয়ার দাবি উঠেছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বিষয়টি শুধু কয়েকটি পরীক্ষা বা নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। তাই দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
শনিবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল JLKM নেতা দেবেন্দ্র মাহাতোরও। তিনি গত ১৪ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে থাকা মাহাতোকে তিরঙ্গা যাত্রায় যোগ দিতে বাধা দেয় পুলিশ। তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতেও জড়াতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “কংগ্রেস এবং জেএমএম দুই দলই পড়ুয়াদের সঙ্গে রাজনীতির খেলা খেলছে। আমরা হেমন্ত সোরেনের ইস্তফা চাই। আমরা একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, হেমন্ত যদি আপনার কথা না শোনেন তাহলে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করুন।”
















