বৃহস্পতিবারের সাত সকালে মন খারাপ করা খবর, না ফেরার দেশে নানা পাটেকর (Nana Patekar )। বর্তমান থেকে অতীতের ভিড়ে মিশে গেলেন বলিউড অভিনেতা। অভিনয় ছিল তাঁর পেশা-ধ্যান জ্ঞাণ। অভিনয় জগতের মানুষ হয়েও পাটেকর খুব বড় ক্রীড়াপ্রেমী। ক্রিকেট থেকে শুটিং একাধিক খেলাতেই ছিল সমান ভালোবাসা। এমনকি জাতীয় স্তরের শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা প্রথম থেকেই ছিল, অফ স্পিনার ছিলেন। কিন্তু ১৯৯১ সালে ‘প্রহার’ ছবির কাজের জন্য শুটিং শেখা শুরু করেন নানা। এরপরই শুটিংয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তাঁর। পেশাদার শুটার হয়ে উঠেন। এমনকি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০০৪ সালে জাতীয় স্তরে খেলাধুলোয় প্রথম পদক পান। এখানেই শেষ নয়., ৪৮তম জাতীয় গেমসে ৩০০ মিটার বিগ বোর ইভেন্টে রুপো জিতে চমকে দেন বলিউডের ক্রান্তিবীর। এরপর দলগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পান। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও শুটিং থেকে দূরে থাকেননি পাটেকর। তরুণ প্রতিভাবান শুটারদের পাশে থাকতেন তাদের সরঞ্জাম কিনে দিতেন।
বিরাট কোহলির প্রতি সমান ভালোবাসা ছিল, সেই কথা নিজেই জানিয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা। একটি সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, “বিরাট এমন একজন ক্রিকেটার, যাকে আমি খুব পছন্দ করি। যখন বিরাট দ্রুত আউট হয়ে যায়, তাহলে আমার আর খাবার খেতে ইচ্ছে করে না।”
বিরাট কোহলি থেকে সচিন তেন্ডুলকর, প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান থেকে অজিঙ্ক রাহানে শোক প্রকাশ করেছেন। বিরাট কোহলি শোক বার্তায় লেখেন, ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক মহীরুহ। তাঁর কাজ এবং রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে। শান্তিতে থাকুন, নানা পাটেকরজি। ওম শান্তি।’
সচিন লিখেছেন, আমি সব সময় অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ হিসেবে মনে রাখব নানা পাটেকরকে। তাঁর কাজের মধ্যেও একই রকম সততা থাকত। মারাঠি হোক বা হিন্দি সিনেমা—যে চরিত্রেই তিনি রূপ দিয়েছেন, তাকে একেবারে জীবন্ত করে তুলেছেন। তাঁর প্রয়াণের খবরে মন ভারাক্রান্ত। তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।’
অজিঙ্ক রাহানে বলেন, “নানা পাটেকরজি এক অসাধারণ অভিনেতা ছিলেন, যাঁর কাজ অনেক প্রজন্মকে বিনোদন দিয়েছে ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর প্রয়াণের খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত।” ধাওয়ান লেখেন, “ভারতীয় সিনেমা জগৎ আজ সত্যি এক বিশেষ প্রতিভাকে হারাল। নানা পাটেকর সাব, আপনার কাজ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ওম শান্তি!”















