কেউ কাঁদলেন, কেউ মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করে রাখতে ব্যস্ত। আবেগে ভাসছে ফুটবল বিশ্ব। নিজের ক্যারিশমা দিয়ে শেষ ম্যাচেও গোল এবং অ্যাসিস্টে রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলকে। নীল সাদা জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। বুয়নেস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় জানালেন কিংবদন্তি।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১২৬ তম গোল। শেষ ম্যাচেও মহাকাব্য। ৭১ মিনিটের মাথায় এল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। পেনাল্টি থেকে জালে বল জড়ালেন মেসি। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নয়নের মণির বাঁ পায়ের জাদু বজায় রইল গোটা ম্যাচ জুড়ে। স্টেডিয়ামে শুধুই ‘ওলে ওলে মেসি’ ধ্বনি। মাঠের মাঝখানে ‘গ্রাসিয়াস ১০’ লেখা এক বিরাট জার্সি মেলে ধরা হল। জাতীয় সঙ্গীতের সময় চোখের জল সামলাতে পারলেন না খোদ ফুটবলের বর্তমান রাজপুত্রও। বিদায়ী ম্যাচে প্রতিপক্ষ বেনিন। তাঁদের ফুটবলাররা দেশের স্মারক তুলে দিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়কের হাতে। নিজের ছন্দে খেলা শুরু করেন মেসি। ৩-০ তে জয় আর্জেন্টিনার। মেসি বিশ্বকাপের পরই ঠিক করেছিলেন আর দেশের হয়ে খেলবেন না। সকলেই জানতেন বিদায়ী ম্যাচের দিন চোখের জলে ভাসবে গোটা বিশ্ব। আসলে শেষ ম্যাচেও কিংবদন্তি প্রমাণ করে দিলেন এখনও তাঁর মধ্যে কত খেলা বাকি রয়ে গিয়েছে। কিন্তু তিনি রূপকথার সেই নায়ক যিনি নিজেই নিজের ইতিহাস রচনা করতে পারেন।নিকো পাজ, জুলিয়ান আলভারেজদের নতুন প্রজন্মকে আবাহনের মাঝেও মেসি অভাব যে কোনদিনই কাটে উঠতে পারবে না আর্জেন্টিনা তা এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিসন্দেহে বলে দেওয়া যায়। 

শেষ ম্যাচে স্টেডিয়ামে নীল-সাদায় মেসির শেষ ম্যাচে হাজির ছিলেন মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো, তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। কেঁদে ফেললেন মেসি। ফুটবল বিশ্বের চোখে ভাসছে কিংবদন্তীর বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুম্বনের সেই মুহূর্ত, কতটা গভীর ভালোবাসা থাকলে এভাবেই আঁকড়ে ধরা যায় বহু প্রতীক্ষিত সফলতাকে। এবারে পুনরাবৃত্তি হয়নি বটে কিন্তু মেসি শুধু নিজের দেশকেই নয়, সারা বিশ্বকে যা দিয়েছেন তা এক পৃথিবী ফুটবল মহাকাব্য রচনা করার জন্য যথেষ্ট।