মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে প্যারা এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট। বুধবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির সদর কার্যালেয় স্ত্রীকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নদীয়ার তাহেরপুরের বাসিন্দা সোমনাথ মালো। একদিকে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই, অন্যদিকে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা। এই দুইয়ের চাপে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সোমনাথের। মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য প্রার্থনা করলেন দেশকে সোনা এনে দেওয়া সোমনাথ।
২০০২ সালে প্যারা এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে প্যারা এশিয়ান গেমসে হাইজাম্পে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে পদকও জিতেছেন।তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর হাত থেকে সম্মান গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য থাকা সত্ত্বেও তিনি স্থায়ী চাকরি কিংবা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাননি বলে তাঁর অভিযোগ করেছেন। ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিয়ে গ্রুড ডি শিক্ষাকর্মী চাকরি পান। কিন্ত সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছেন। যদিও ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওায়ার অনুমতি দিয়েছে কোর্ট। কিন্তু তারপর তাদের ভবিষ্যত অন্ধকারে।
একদিকে ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন অন্যদিকে চাকরির অনিশ্চয়তা। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসছিলেন নিজের সোনার পদক ও অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে ছবি সঙ্গে নিয়ে। ২০০২ সালে দেশের জন্য সোনা আনলেও বাম বা তৃণমূল, কোনও সরকারই তাঁকে উপযুক্ত সম্মান দেয়নি। সহ-খেলোয়াড়রা অন্য রাজ্যে সরকারি চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা পেলেও, তাঁর ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিপূরণ হয়নি। তিনি জানান, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও নিজের দাবি নিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছেন। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার দাবি করেছেন তিনি।
খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর চাকরি বহাল রাখার আবেদন করেন। কিন্তু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী সোমনাথকে বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং বিশেষ ছাড়ের সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তবে সোমনাথ ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ায় মানবিকতার খাতিরে তাঁর ফাইলটি পৃথকভাবে রাখার চেষ্টা করবেন।
















