দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের সহ অধিনায়ক হয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। শুধু নামমাত্র পদে থাকাই নয় একইসঙ্গে মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নিচ্ছেন বৈভব। দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে নজর কাড়লেন ১৫ বছরের কিশোর ক্রিকেটার। 

ষষ্ঠ ওভারে মুকেশ কুমারের একটি বল রিকির পায়ের পাশ দিয়ে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে জমা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করেন ইস্ট জোনের ক্রিকেটাররা। কিন্তু অধিনায়ক ঈশান কিষান  তখন ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন।  সেই সময় স্লিপ থেকে চিৎকার করে বৈভব বলতে থাকেন, “আরে রিভিউটা নিয়ে নাও। আমি বলছি তো, রিভিউ করো।” তরুণ তুর্কির কথা শুনে শেষ পর্যন্ত রিভিউ নেন ঈশান। ডিআরএসে দেখা যায়, রিকি আউট। উইকেট পেয়ে বৈভবের সঙ্গে সেলিব্রেটও করেন মুকেশ। 

ঈশান কিষান মাঠের বাইরে থাকায় কিছুক্ষণের জন্য অধিনায়কত্বও করেন, অধিনায়ক বৈভব সূর্যবংশীর দুর্দান্ত রিভিউতে সাফল্য পেল পূর্বাঞ্চল, মহম্মদ সামির ফুল লেন্থ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বাইরের কানায় লাগে স্মরণের। প্রথমে আম্পায়ার নট আউট দিলেও রিভিউ নেয় সাউথ জোন, আল্ট্রাএজে পরিষ্কার নিক ধরা পড়ে।
স্মরণ ২৩ রানে আউট হয়ে ফিরতেই মাঠে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে, সামি এসে তরুণ অধিনায়ক বৈভবকে কাঁধে হাত রেখে অভিনন্দন জানান। বৈভবের বিচক্ষণতায় ইস্ট জোন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পেল, তৃতীয় দিনের শেষে ম্যাচে তাদের দাপট স্পষ্ট।

দলীপ ট্রফিতে অধিনায়কত্বও করেছেন বৈভব। এর আগে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম ইনিংসের ১৯তম ওভারে কব্জিতে আচমকা চোট পান ইস্টজোনের অধিনায়ক ঈশান কিষা্ণ। আঘাত গুরুতর হওয়ায় মাঠে ছুটে আসেন ফিজিও। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাধ্য হয়েই মাঠ ছাড়েন ঈশান।মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির দলের অধিনায়কত্ব করা ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা।

দলে একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার থাকলেও বৈভবকেই সহ অধিনায়ক করা হয়। তবে নির্বাচকেরা তখনই জানিয়েছিলেন, তাৎক্ষণিক নেতৃত্বের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে নয়, ভবিষ্যতের জন্য তরুণ ক্রিকেটারকে তৈরি করতেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে বৈভবকেই কি অধিনায়ক ভাবছে বিসিসিআই, কিশোর ক্রিকেটার কিন্তু নিজেকে প্রমাণ করছেন প্রতিদিনই।