নিম্নচাপের বৃষ্টি এবং আর্দ্রতার জেরে দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গি (Dengue) ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। গত এক মাসে পাঁচ জেলায় উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে ডেঙ্গি সংক্রমণ। রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত ১০০০! কলকাতাতে সংক্রমিত ৩৫০ জন। পাশাপাশি হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদে উল্লেখযোগ্য হারে সংক্রমণ বেড়েছে। পাশাপাশি চওড়া হচ্ছে ম্যালেরিয়ার থাবা। রাজ্যে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার।
পালাবদলের বাংলায় একের পর এক পুরসভা থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন চেয়ারম্যানেরা। অকেজো বেশিরভাগ পুরবোর্ড, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে আশা কর্মীরা ব্যস্ত আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে। খাতায়-কলমে বর্ষা বিদায় নিলেও যেহেতু বৃষ্টি কমছে না তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ডেঙ্গি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। স্বাস্থ্য ভবন (Swasthya Bhawan) সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত ১০ জন ডেঙ্গি পজিটিভ রোগীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। এডিস মশার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চলেও। জলপাইগুড়ি জেলায় আচমকা ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা মনে করছেন চারটি সেরোটাইপের মধ্যে এবছর 'ডেন ২'-এর আধিক্য বেশি হওয়ায় যাঁরা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি। স্বাস্থ ভবনের আধিকারিকরা মনে করছেন এ বছর এল নিনোর (El Nino) প্রভাবে শীত দেরিতে আসতে পারে। আর যেহেতু এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি বর্ষা বিদায় নেয়নি তাই সে ক্ষেত্রে হয়তো দুর্গাপুজো কালীপুজোর পরেও ডেঙ্গির প্রকোপ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার পরিসংখ্যান বলছে মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গি আক্রান্ত ৬০০, উত্তর ২৪ পরগনায় সাড়ে তিনশো, কলকাতায় ৩৫০ জন, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩০০ জন করে ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মেলেছে। এই অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই পুরসভা, পঞ্চায়েত কাজে না নামলে এডিস মশার দাপট আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। রাজ্যের সাতটি পুরনিগম ১২৯টি পুরসভার প্রায় কোথাও নির্বাচিত বোর্ড নেই, প্রায় ৩৩৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অবস্থা তথৈবচ। প্রতিবছর ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে লাভা ধ্বংস করার জন্য জেলায় জেলায় জনপ্রতিনিধিরাই কার্যত নোডাল অফিসারের কাজ করতেন। ওয়ার্ডে বা পঞ্চায়েতে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজে সমস্যা হলে কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ করত স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। কিন্তু এখন তো সবটাই অনিশ্চিত। প্রতিটি পুরসভায় একজন করে প্রশাসক বসানো হয়েছে। তাঁর একার পক্ষে জনপ্রতিনিধিদের বিকল্প হয়ে ওঠা সম্ভব কি? উত্তর নেই স্বাস্থ্য ভবনের কাছেও।















