মাত্র দু মাসে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (Malda Medical College and Hospital) এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য মহলে। জুলাইয়ে হাসপাতালটিতে ৭৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। অগাস্টে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে পৌঁছয় ৮৯-এ। পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য ভবনের গড়া বিশেষজ্ঞ কমিটি শনিবার সরেজমিনে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে শিশুমৃত্যুর নেপথ্যে একাধিক কারণের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে, অপুষ্টি এই ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পাশাপাশি জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের শারীরিক জটিলতাও মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। হাসপাতালের শিশু বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন দিকও খতিয়ে দেখেন কমিটির সদস্যরা।
তদন্তে হাসপাতালের পরিকাঠামোয় কিছু ঘাটতি এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয়ের সমস্যাও নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান তথা অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর হেলথ সার্ভিসেস প্রলয় আচার্য (Pralay Acharya, Chairman of the Expert Committee and Additional Director of Health Services)। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটিতে রয়েছেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক রাজশেখর সরকার (Professor Rajshekhar Sarkar of Murshidabad Medical College) ও ভোলানাথ আইচ (Bholanath Aich) এবং এসএসকেএম-এর অধ্যাপক বিজন সাহা 9Professor Bijan Saha of SSKM)। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তাঁরা।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বছর অগাস্ট পর্যন্ত মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এই শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৬। এ বছরের মাত্র জুলাই ও অগাস্টের পরিসংখ্যান সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। সমস্ত তথ্য ও পর্যবেক্ষণ একত্র করে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। রিপোর্ট জমা পড়ার পর স্বাস্থ্য দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
















