বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে 'হুল দিবস' উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আদিবাসী মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন। তিনি জানান, পয়লা জুলাই অর্থাৎ বুধবার রাজ্যের ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনা ৩০০০ টাকা করে পাবেন। এই তালিকায় রয়েছেন ৫ লক্ষ আদিবাসী মহিলাও। এদিন  সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর সিধু-কানহু-র মর্মর মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শুভেন্দু। এরপর বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানের অংশ নেন তিনি। ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে জনজাতি সমাজকে দেশের প্রথম সারিতে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। 

মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সাঁওতালি ভাষার স্বীকৃতির কথা স্মরণ করে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। প্রতিকুল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সবাই উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি লোকশিল্পী, শিক্ষক, চিকিৎসকদের মতো আদিবাসী সমাজের গুণীজনদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মুকুটমণিপুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা রাজ্যের স্বাধীন ভারতের বসবাস করছি, ব্রিটিশের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছি তার সোপান তৈরি হয়েছিল হুল বিদ্রোহের আগুন থেকে।" এদিন জল, জমি জঙ্গলের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের প্রাসঙ্গিকতার পাশাপাশি অলচিকি লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে জনজাতি সমাজকে অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্বীকৃতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এ রাজ্যের পূর্বতন সরকার আদিবাসীদের প্রাপ্য মর্যাদা দেয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন জঙ্গলমহলে ৭৫ টা ব্লকে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। আদিবাসী হোস্টেলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খাদ্য ভাতা ১৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে অগাস্ট মাস থেকে ৩৩০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আদিবাসী সার্টিফিকেট নিয়ে কোনো রকমের দুর্নীতি বরদাস্ত হবে না সেটাও স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা ভুয়ো এসসি সার্টিফিকেট দিয়েছেন বা নিয়েছেন প্রত্যেকের জেলযাত্রা নিশ্চিত। এদিন ভারত সরকারের ধরতি আভা জনজাতি গ্রাম উৎকর্ষ অভিযানের আওতায় বাংলার সংযুক্ত হওয়ার কথাও জানান। শুভেন্দু অধিকারী বলেন প্রাচীন আদিবাসী গোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সহ একাধিক কর্মসূচি চালু হয়েছে যার সুফল নিবে অগাস্ট মাস থেকে। রাজ্য সরকারের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর এবার পুরুলিয়া-বাঁকুড়া এলাকাকে উন্নতি শিখরে নিয়ে যাবে। কেন্দ্র - রাজ্য সরকারের জনজাতি দরদী মানসিকতার খতিয়ান তুলে ধরে দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো থেকে শুরু করে রাজ্যের মন্ত্রিসভাতেও ক্ষুদিরাম টুডু, জুয়েল মুর্মু, বিশাল লামা দের মতো জনজাতি প্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।