শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতিই এখন বিজেপির কাছে উল্টো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সাংসদ, বিধায়ক ও মন্ত্রীদের মনোনয়নের পর সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর দাবি, কলেজে বিশৃঙ্খলা বা অনভিপ্রেত ঘটনা ঠেকাতে ‘লোক দরকার’। সেই কারণেই রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শমীক বলেন, “আমরা বলেছি, শিক্ষাঙ্গনকে আমরা রাজনীতিমুক্ত করব। রাজনীতিমুক্ত কীভাবে করে?” এরপরই তাঁর যুক্তি, “কলেজের অধ্যাপিকাকে প্লাস্টিকের জলের জগ ছুড়ে মারা হয়েছিল। সেগুলো ঠেকানোর জন্য লোক দরকার তো। সে জন্যই এঁদের আনা হয়েছে। সচেতনভাবেই করা হয়েছে।” অর্থাৎ শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার বদলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার যুক্তিতেই জনপ্রতিনিধিদের কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
শমীকের এই ব্যাখ্যাই অবশ্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির তরফে বারবার বলা হয়েছিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত করা হবে। সেই অবস্থানের পরেও কলেজের গভর্নিং বডির শীর্ষ পদে সক্রিয় বিজেপি নেতাদের বসানোর সিদ্ধান্তে ‘রাজনীতিমুক্ত’ শিক্ষাঙ্গনের সংজ্ঞা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষত, কোনও ঘটনা সামলানোর জন্য রাজনৈতিক পরিচয়ই কেন প্রয়োজন শমীকের যুক্তি থেকে সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলেই দাবি।
কলেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা আইনত নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু বিতর্কের মূল জায়গা আইনি বৈধতা নয়, বিজেপির ঘোষিত রাজনৈতিক অবস্থান। শিক্ষাঙ্গনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ২৪৭টি কলেজের পরিচালন ব্যবস্থায় একের পর এক বিজেপি নেতা, সাংসদ, বিধায়ক ও মন্ত্রীর নিয়োগ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্নই এখন সামনে। আর শমীকের ‘লোক দরকার’ যুক্তি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
















